সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের কড়া নিন্দা করলেন নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। গোটা ঘটনাটিকে তিনি 'যুদ্ধাপরাধ' বলে অভিহিত করেছেন। এই ঘটনা, লাতিন আমেরিকার দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, মুষ্টিমেয়, ইউরোপীয় নেতাদের সমর্থন পাচ্ছেন তিনি। এই অবস্থায় ফের একবার ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন যুদ্ধে দীর্ণ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (Volodymyr Zelenskyy)। নাম না করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকেও (Vladimir Putin) আটক করার দাবি জানালেন তিনি।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাটকীয়ভাবে আটক করার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পরামর্শ দিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখন জানে স্বৈরশাসকদের সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য কী করতে হবে।" সরাসরি পুতিনের নাম নেননি জেলেনস্কি। যদিও, জেলেনস্কির বক্তব্যের পুতিন সংক্রান্ত ইঙ্গিন্ত স্পষ্ট।
ইউরোপের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বক্তব্য রাখার সময়, তিনি বলেন, "এতে আমার কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত? আমি কী বলতে পারি? যদি এই ধরণের স্বৈরশাসকদের সঙ্গে ঠিক এভাবেই মোকাবিলা করা সম্ভব হয়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানে এর পরে কী করতে হবে।" রাজনৈতিক মহলের দাবি সরাসরি নাম না নিলেও জেলেনস্কি নিজের বার্তার অন্তর্নিহিত অর্থ বিশ্ববাসীকে বোঝানোর ক্ষেত্রে কোনও রাখঢাক করেননি।
দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকা-ভেনেজুয়েলার মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চলছিল। আশঙ্কা সত্যি করে শনিবার ভোররাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস-সহ মিরান্ডা, আরাগুয়া এবং লা গুয়াইরা অঞ্চলে গোলাবর্ষণ করে মার্কিন সেনা। চালানো হয় বিমান হামলা। অন্ধকারে ঢেকে যায় ভেনেজুয়েলা। এরপরই মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে আমেরিকায় নিজে যায় মার্কিন সেনা। বর্তমানে তাঁদের রাখা হয়েছে নিউ ইয়র্কের ডিটেনশন সেন্টারে। জানা গিয়েছে, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক সন্ত্রাস, কোকেন আমদানি ও মারণাস্ত্র রাখার মতো বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের হয়েছে মার্কিন আদালতে। সেই সবকিছু বিচারের জন্যই তাঁদের আমেরিকায় নিয়ে আসা হয়েছে।
