সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro ) বন্দি করেছে আমেরিকা। ভেনেজুয়েলায় মাত্র দু'ঘণ্টার অভিযানে গভীর রাতে প্রেসিডেন্ট বাসভবনের শোওয়ার ঘর থেকে সস্ত্রীক মাদুরোকে তুলে নিয়ে গিয়ে বন্দি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেনা। আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে এই ঘটনা নজিরবিহীন না হলেও, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এমন অভিযান অকল্পনীয় বলেই মনে করছেন অনেকে। গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া, চিন, ভারত, ইরান এবং কিউবা। দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশও তটস্থ। সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে কলম্বিয়া। আবার আর্জেন্টিনার মতো দেশ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হানাকে সমর্থন করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা চালাবে আমেরিকাই। প্রয়োজনে সেনাও পাঠাতে পারে। যদিও ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টে মাদুরোর অনুপস্থিতিতে সে দেশের দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজের হাতে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পেয়ে আমেরিকাকে কড়া বার্তাও দিয়েছেন ডেলসি। বলেছেন, "আমরা কখনও কারও দাসত্ব করব না। কোনও সাম্রাজ্যের উপনিবেশ আর আমরা হব না। আমরা ভেনেজ়ুয়েলাকে রক্ষা করতে প্রস্তুত।" এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা করছেন অনেকে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হানায় যে স্থিতাবস্থা নষ্ট হয়েছে, তা দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কী হতে চলেছে ভেনেজুয়েলায়, রইল সম্ভাব্য পাঁচ পরিস্থিতি...
ফিরে যাবেন ট্রাম্প
ভূ-রাজনীতির বিশেষজ্ঞদের মত, মাদুরো সরানোই প্রধান লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পের। তিনি তা করে ফেলেছেন। প্রাথমিক ভাবে ভেনেজুয়েলা চালানোর দাবি করলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কথা মাথায় রেখে হয়তো তিনি ফিরে যাবেন। কারণ, আমেরিকার 'শ্রেষ্ঠত্ব' প্রমাণ করার যে উদ্দেশ্য তাঁর ছিল, তাতে তিনি 'সফল'। এতে ভেনেজুয়েলায় সেই অর্থে কিছু বদল আসবে না। মাদুরো সরলেও একই প্রশাসনিক ব্যবস্থা সেখানে বহাল থেকে যাবে। যদিও এর সম্ভাবনা কম কারণ, ভেনেজুয়েলা হামলা চালাতে আমেরিকা যে ঝুঁকি নিয়েছে, তার কোনও গুরুত্বই থাকবে না আর।
বিপ্লব
মাদুরোর অনুপস্থিতিতে বিরোধীরা দেশের ক্ষমতা দখল করতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মত, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের সময় থেকে সরকারের গণতন্ত্র-বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ উঠছিল। সেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয় মাদুরোর আমলে। বর্তমানে প্রশাসনে যে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে, তাতে গণবিপ্লবের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। গোটা ব্যবস্থা বদলের দাবিতে পথে নামতে পারে ভেনেজুয়েলার জনতা। কিন্তু তাতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। কারণ, প্রশাসন দুর্বল হয়ে পড়লে নানা জায়গায় হিংসা, হানাহানির ঘটনা ঘটবে। জায়গায় জায়গায় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর জন্মও হতে পারে।
'পাপেট' সরকার
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, ভেনেজুয়েলায় 'পাপেট' সরকার চাইছেন ট্রাম্প। এমন সরকার, যারা আমেরিকার অঙ্গুলিহেলনেই কাজ করবে। এতে ওয়াশিংটনের স্বার্থসিদ্ধি হবে। ট্রাম্পের নজরে ছিল ভেনেজুয়েলার তেল। সেখানকার সরকার 'হাতের পুতুল' হয়ে থাকলে, সেই তেল পেতে সমস্যাও হবে না। কিন্তু এই ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক স্তরে 'চাপে' পড়তে পারে আমেরিকা। কারণ, এতে কখনওই সমর্থন জানাবে না রাশিয়া, চিনের মতো অন্য শক্তিধর দেশগুলি।
অস্থায়ী দখলদারি
আবার বিশেষজ্ঞদের অন্য একটি অংশের মত, ভেনেজুয়েলার শাসনভার আপাতত দখল করতে পারে আমেরিকা। ঠিক যেমনটা দাবি করেছেন ট্রাম্প। পরে সেখানে মার্কিন হস্তক্ষেপেই ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন হবে এবং তার পর ক্ষমতার হস্তান্তর। যদিও তাতে যে সরকার ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতায় আসবে, তারা আমেরিকার 'হাতের পুতুল' হয়ে থাকবেই মত বিশেষজ্ঞদের।
ছারখার হবে ভেনেজুয়েলা
কেউ কেউ মনে করছেন, মার্কিন হামলা এবং মাদুরোর অপহরণে ভেনেজুয়েলায় খুব শিগগির স্থিতাবস্থা ফিরবে না। ইতিমধ্যেই প্রশাসন দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিরোধীরাও সে দেশে একজোট নয়। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা পুরোপুরি সে দেশের শাসনভার দখল না করলেও, মাঝে মাঝে মার্কিন হস্তক্ষেপ চলতেই থাকবে। এতে শান্তি ফেরা তো দূর, কয়েক বছরে ছারখার হয়ে যাবে ভেনেজুয়েলা!
