বাংলাদেশে দিন পনেরো আগে হামে একদিনে ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। ফের গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে ১৭ জন শিশুর মৃত্যু হল। এইসঙ্গে আরও ১ হাজার ২২৪ শিশুর দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত সারা দেশে হাম আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানি ঘটেছে ৫৪৫টি শিশুর। সোমবার, ২৫ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে বাংলাদেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিলে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘ফৌজদারি অবহেলা’ উল্লেখ করে প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের ভূমিকা তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। একইসঙ্গে ইউনুস ছাড়াও প্রাক্তন সব উপদেষ্টা-সহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয় আদালতের কাছে।
গত রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট পিটিশন দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম। রিটে এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি ইউনুস-সহ উপদেষ্টা পরিষদের সব সদস্যের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করার নির্দেশনা চাওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছাড়াও স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক-সহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
এছাড়া বাম ছাত্র ইউনিয়নের আয়োজনে মহম্মদ ইউনুস এবং তাঁর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমকে দায়ী করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করা হয় ঢাকার মিরপুরে ইউনুসের গ্রামীণ ব্যাঙ্কের সামনে। ওই মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন এইচইউএমের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল আহমেদ। হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ইউনুস সরকার এড়াতে পারে না বলে দাবি বাম ছাত্র ইউনিয়নের।
অভিযোগ, ২০২৪ সালে ৮ আগস্ট ক্ষমতা গ্রহণ করার পরই আর্থিক সুবিধা পেতে ইউনুস ইউনিসেফের থেকে টিকা কেনা বন্ধ করে ব্যক্তিভাবে টিকা কেনার ব্যবস্থা করেন। টিকা কেনার অব্যবস্থার কারণেই পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেই টিকা কেনার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু ততদিনে পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে গিয়ে ব্যাপকভাবে শিশুমৃত্যু ঘটতে শুরু করে দিয়েছে। যে পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে ইউনুসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।
