বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যতম প্রতিষ্ঠানে ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন বা 'র্যাব' আগের কাঠামো থাকবে না, বাহিনীর নামও পরিবর্তন হতে পারে, জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলির ক্ষেত্রে নয়া নামকরণের বিষয়টি নতুন নয়, ১৮ বছর আগে বিডিআরের কিছু বিপথগামী সদস্যের কারণে সেনা বাহিনীর কিছু আধিকারিক ও সদস্য প্রাণ হারান। এর পরেই ক্ষমতায় থাকা আওয়ামি লিগ সরকার বিডিআর-এর নাম পালটিয়ে বিজিবি করে। আবার ইউনুসের শাসনকালে পুলিশের পোশাক পালটে দেওয়া হয়। এবার তারেক রহমান সরকারও পুলিশের ইউনিফর্ম বদলের কথা ভাবছে।
মঙ্গলবার ঢাকায় সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রকের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ 'র্যাব'-এর নতুন নামকরণের আভাস দেন। সরকারের তিন মাসের কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। উপস্থিত ছিলেন প্রধান তথ্য আধিকারিক সৈয়দ আবদাল আহমদ ও তথ্য মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসিন।
এরআগে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছিলেন, হামের সংক্রমণ ও টিকার সংকটের কারণ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘হামের সংক্রমণ এবং বর্তমান সংকট-সহ এ সংক্রান্ত সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত হবে। এ নিয়ে তদন্ত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে হামের বিষয়ে তদন্ত কমিটি হবে।’ ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘হামের কারণে চার শতাধিক শিশু মারা গিয়েছে। এটি বড় বিষয়। কী কারণে হামের টিকার সংকট হয়েছে, টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অবহেলা ছিল কি না-- এসব নিয়েই তদন্ত করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘কোনও অপরাধ তদন্তে উঠে এলে অবশ্যই দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে। হামের চিকিৎসায় সরকারের পক্ষ থেকে আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো দরকার।’
প্রসঙ্গত, বিগত সরকারের সময়ে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড-সহ মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত অভিযোগ ওঠে র্যাবের বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রসংঘ-সহ বিভিন্ন সংস্থা, দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশের এলিট ফোর্স র্যাবকে বিলুপ্তির সুপারিশ ওঠে। ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে র্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিল বর্তমান শাসকদল বিএনপি।
সোমবার র্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও এ বিষয়ে বলেন, মানবাধিকার সমুন্নত রেখে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে একটি আধুনিক ও পেশাদার এলিট ফোর্স গঠনে সরকার কাজ করছে। উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, রাষ্ট্রের একটি এলিট বাহিনীর প্রয়োজন রয়েছে। বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি এলিট ফোর্স থাকবে, তা র্যাব নামে হোক বা ভিন্ন নামে। উল্লেখ্য, একদিকে যেমন শেখ হাসিনার আমলে বিরোধী দমনে 'ব়্যাব' কুখ্যাত হয়েছিল, অন্যদিকে এই নিরাপত্তা বাহিনীর সাহায্যেই পদ্মাপাড়ের জেহাদিদের দমন করেছিল আওয়ামি লিগ সরকার।
