না পারছে গিলতে, না পারছে উগরাতে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে কার্যত এমনই অবস্থা বাংলাদেশের। এর মাঝেই নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঢল নেমেছে বাংলাদেশে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনএইচসিআর সূত্র জানিয়েছে, শুধুমাত্র গত ১৬ মাসে দেশে ১ লক্ষ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটেছে মায়ানমারের সীমান্তবর্তী শহর বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায়। মায়ানমার সেনাদের অত্যাচারে টিকতে না পেরে স্থলপথে পায়ে হেঁটে বা নদীপথ দিয়ে মুসলিম রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে।
কক্সবাজারে নতুন করে অনুপ্রবেশ ও ক্যাম্পে উচ্চ জন্মহারের কারণে রোহিঙ্গা সংকট দিনদিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তদুপরি ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিত্যদিন খুনোখুনি লেগেই আছে। অভিযোগ রয়েছে, তরুণী-যুবতীদের দিয়ে সামুদ্রিক পর্যটন শহর কক্সবাজার-সহ বন্দরনগর চট্টগ্রামের হোটেলগুলোতে দেদার চলছে দেহব্যবসারও। বাড়তি আয়ের লোভ দেখিয়ে মালয়েশিয়া-সহ বিদেশে পাচারও করা হচ্ছে রোহিঙ্গা যুবতীদের।
তরুণী-যুবতীদের দিয়ে সামুদ্রিক পর্যটন শহর কক্সবাজার-সহ বন্দরনগর চট্টগ্রামের হোটেলগুলোতে দেদার চলছে দেহব্যবসারও। বাড়তি আয়ের লোভ দেখিয়ে মালয়েশিয়া-সহ বিদেশে পাচারও করা হচ্ছে রোহিঙ্গা যুবতীদের।
রাষ্ট্রসংঘের মানবিক বিষয়ক সংস্থা- ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনেই গত ১৬ মাসে নতুন করে দেড় লাখ অনুপ্রবেশের কথা বলা হয়েছে। ২০১৭ সালে মায়ানমারে সেনা অভিযানের মুখে ৭ লক্ষ রোহিঙ্গার আগমন ঘটে। তারও আগে এসেছিল ৫ লক্ষ রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে বর্তমানে তাদের সংখ্যা ১৫ লক্ষ বলা হচ্ছে। এই সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন গড়ে জন্ম নিচ্ছে শতাধিক শিশু। বছরে প্রায় ৩০ হাজার শিশুর জন্ম হওয়ায় সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে।
গত ১৩ মে রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাত ও সহিংসতার কারণে ১৬ মাসে নতুন করে দেড় লক্ষের মতো রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৭৬৯ জন রোহিঙ্গা নিবন্ধন করেছে। বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা আরও বেশি হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছেন, প্রায় ২৮ লক্ষ জনসংখ্যার কক্সবাজার জেলায় এখন অতিরিক্ত প্রায় ১৫ লক্ষ রোহিঙ্গার চাপ সামলাতে হচ্ছে। মাত্র ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাসের ফলে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চল বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী এলাকাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। উখিয়া ও টেকনাফে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৫ লক্ষ হলেও সেখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গার সংখ্যা তার প্রায় দ্বিগুণ। তথ্যানুযায়ী, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯৯০ সাল থেকে বাস্তুচ্যুত মোট ১০ লক্ষ ৪৪ হাজার ৩৫৪ রোহিঙ্গাকে নিবন্ধন করেছে ইউএনএইচসিআর।
