শেখ হাসিনার পতনের ১৭ মাস পর ভারতের মাটিতে প্রথমবার সাংবাদিক বৈঠক করল আওয়ামি লিগ। শনিবার দিল্লির প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার ওই সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী হাছান মাহমুদ-সহ হাসিনার দলের অন্যান্য নেতারা। সেখানেই তাঁরা বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসকে তোপ দাগেন। পাশাপাশি, দেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন নিয়েও তাঁরা মুখ খুলেছেন।
এদিন মাহমুদ বলেন, "বাংলাদেশ আমাদের দেশ। হাসিনা এবং আমরা অন্যান্যরা যাঁরা দেশের বাইরে আছি, তাঁরা ফিরে আসতে চাই। কিন্তু অন্তবর্তী সরকারকে আসন্ন নির্বাচন আইন মেনে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করাতে হবে। বর্তমান সরকার প্রতিশোধ পরায়ণ। তারা আমাদের সঙ্গে কেবল শত্রুতাই চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই। প্রত্যেকবারই আমরা জনগণের রায়ে ক্ষমতায় এসেছি। জনগণকে আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু ইউনুস সরকারের অধীনে আওয়ামি লিগ কখনই ভালো কাজ করতে পারবে না।" তবে আওয়ামি লিগ যে বাংলাদেশে ফের ক্ষমতায় ফিরবে সেই আশ্বাসও এদিন দিয়েছেন মাহমুদ। হাসিনার দলের দাবি, ইউনুস সরকার বাংলাদেশে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করাতে অক্ষম। তারা আওয়ামি লিগকে ভয় পাচ্ছে। তাই জন্যই তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রসঙ্গত, সংবাদ প্রতিদিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেছিলেন, আওয়ামি লিগের জনপ্রিয়তাকে ভয় পাচ্ছেন ইউনুস। তাই জন্যই তাঁর দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জুলাই গণবিক্ষোভে ১৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনের একটি রিপোর্ট। সেই রিপোর্টকে এদিন 'পক্ষপাতদুষ্ট' বলে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর কথায়, "২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক রিপোর্টে বাস্তব পরিস্থিতির সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি।" তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনের ওই রিপোর্টে ঘটনাবলিকে একপেশেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং আওয়ামি লিগ সমর্থক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর সংঘটিত হিংসার তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "এই ধরনের রিপোর্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তথ্য যাচাই না করেই একতরফা বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে এমন রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
আওয়ামি লিগ ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে। খুব শীঘ্রই তারা এ বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের কাছেই অভিযোগ দায়ের করবেন বলেও জানিয়েছেন মাহমুদ। একইসঙ্গে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশন, ইউনূস এবং জামাতের মধ্যে আঁতাত রয়েছে বলেও সরব হয়েছেন মাহমুদ।
