মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ। হামলা, পালটা হামলায় জতুগৃহ ইরান-ইজরায়েল। শনিবার গভীর রাতে আমরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিজের কার্যালয়ে নিকেশ হয়েছেন সে দেশের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করলেন বাংলাদেশের জামাত-ই-ইসলামির আমির তথা সে দেশের বিরোধী দলনেতা ডাঃ শফিকুর রহমান। রবিবার সকালে ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করে তাঁর আবেদন, 'আমি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরান-সহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই - অবিলম্বে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করুন, সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করুন এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে আসুন।'
দিন দুই ধরেই ইরান-ইজরায়েলের আকাশে ঘনিয়েছিল যুদ্ধের মেঘ। আমেরিকা তাতে কার্যত অনুঘটকের কাজ করে। অপারেশন ‘সিংহগর্জন’ শুরু করে আমেরিকা-ইজরায়েল। শনিবার সকাল থেকেই সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ। বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়, একটি স্কুলে গোলাবর্ষণে প্রাণ হারায় ষাটের বেশি পড়ুয়া, গুঁড়িয়ে যায় বাড়ি। ফের যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করে বিশ্ববাসী। পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে শনিবার গভীর রাতে। নিজের কার্যালয়ে কর্তব্যরত অবস্থায় মিসাইল হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই এবং তাঁর পরিজনরা। নিহত খামেনেইয়ের কন্যা, জামাই এবং নাতি-নাতনিরা। এই খবর জানিয়েছেন মার্কিন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
খামেনেইয়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করেছেন বাংলাদেশের বিরোধী দলনেতা তথা জামাতের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান। লিখেছেন, 'ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের সংবাদে আমি গভীরভাবে শোকাহত। শোকসন্তপ্ত ইরানি জনগণের প্রতি রইল আমার আন্তরিক সমবেদনা। মহান আল্লাহ তাদের এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ও শক্তি দান করুন। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা ইতোমধ্যেই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতি যদি আরও সামরিক উত্তেজনার দিকে যায়, তবে তা শুধু একটি দেশের নয় - পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে। পবিত্র রমজান মাসে যে কোনো ধরনের হামলা বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করবে এবং বিশ্বশান্তিকে আরও বিপন্ন করবে।'
শফিকুর রহমানের আরও বক্তব্য, 'আমি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই - অবিলম্বে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করুন, সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করুন এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে আসুন। আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি। বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘ ও বিশ্বনেতাদের এখনই কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।'
আসলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামাতে জামাত প্রধানের রমজান মাসের উল্লেখ ভিন্ন কারণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এর সূত্রপাত সুদূর অতীত - ১৯৬৭ সালে। সেবার ইহুদিদের উৎসব ইয়মকিপুর চলাকালীন আরব দুনিয়া হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েলে। ওই যুদ্ধ 'সিক্স ডে ওয়ার' বলে পরিচিত। বলা হয়, ইহুদীদের ধর্মীয় উৎসবের সময়ে ঢিলেঢালা নিরাপত্তার সুযোগ যুদ্ধ শুরু করে। এবারও পালটা মুসলিমদের সবচেয়ে বড় উৎসব রমজান চলাকালীন পশ্চিমী দুনিয়ার এই হামলায় নিন্দা করেছেন জামাত আমির।
