shono
Advertisement

Breaking News

Dhaka

গদিতে বসেই দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতিতে তৎপর তারেক, ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রবিবার সকালে ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে প্রণয় বর্মার প্রায় একঘণ্টা ধরে বৈঠক চলে। তাতে ভিসা-সহ একাধিক ইস্যু উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 02:46 PM Mar 01, 2026Updated: 02:46 PM Mar 01, 2026

মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশের সুসম্পর্ক একেবারে তলানিতে চলে গিয়েছিল। আর দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে বসেই সেই সম্পর্ক মেরামতিতে তৎপর হয়ে উঠলেন তারেক রহমান। গত রবিবার ঢাকায় বিদেশ মন্ত্রকে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় বর্মা। ঠিক সাতদিনের মাথায় দায়িত্ব পাওয়ার পর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বৈঠক করলেন প্রণয় বর্মার সঙ্গে। জানা গিয়েছে, এদিন সকাল ১০টা ৫০ নাগাদ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে এই বৈঠক হয়েছে। মন্ত্রক সূত্র জানিয়েছে, সালাহউদ্দিন আহমদের ডাকে বৈঠকে যোগ দিতে সচিবালয় আসেন ভারতীয় হাইকমিশনার। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এই বৈঠক চলে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মার সঙ্গে এই বৈঠককে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলা হলেও দু'দেশের সীমান্ত, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র, ভারতীয় দূতাবাসের নিরাপত্তা, বাংলাদেশকে ভিসা প্রদান-সহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। বৈঠকে দুই দেশের নিরাপত্তা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছাড়াও দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সীমান্তে চোরাচালান রোধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

আলোচনার অন্যতম একটি বড় অংশ ছিল বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া। ভিসা প্রাপ্তিতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করে কীভাবে এই প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুততর করা যায়, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ভারতীয় হাইকমিশনারও দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে নিরাপত্তা ও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এর আগে গত রবিবারই ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী ভারত’ বিদেশমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে একথা জানান প্রণয় কুমার বর্মা।

এদিন মোদির ‘দূতে’র বক্তব্য, সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। প্রণয় বর্মা বলেন, “গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠান। একই দিনে তাঁদের মধ্যে টেলিফোনে কথোপকথন হয়।” মনে করান, ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার শপথ নেওয়ার সময় ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ভারত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে ঢাকা সফর করেন। সফরকালে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর একটি চিঠি হস্তান্তর করেন।

প্রণয় বর্মা বলেন, “উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে ভারতের সমর্থনের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও অগ্রসর চিন্তার ভিত্তিতে সবক্ষেত্রে জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতা জোরদার করতে ভারত আশাবাদী।” ভারত সবসময়ই দূরদর্শী ও জনকেন্দ্রিক সহযোগিতা জোরদারের পক্ষে। জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও বিনিময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গিতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন তিনি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement