নতুন বাংলাদেশে নবতম দৃষ্টান্ত। ক্ষমতায় ফিরে শুধু ব্যতিক্রমী নয়, মহৎ নজির স্থাপন করেছেন বিএনপি-র নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের সংসদ সদস্য তথা পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান ভোটে জেতার পরদিনই নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগের একটি দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দিলেন! ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পর শুধু পঞ্চগড়ই নয় রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নে থাকা লিগের দপ্তর লুটপাট শেষে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে স্থায়ী সরকার গঠনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন (Bangladesh Election 2026) হয়েছে। শুক্রবার ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জেতার পরদিন আওয়ামি লিগের একটি দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দিয়েছেন সংসদ সদস্য হয়েছেন আবু দাউদ প্রধান। শুক্রবার সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামি লিগের অফিস খুলে দিয়ে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে ওই কার্যালয় খুলে দেওয়ার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওই ভিডিওতে চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামি লিগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেট বলেন, ‘‘সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জননেতা আবু দাউদ প্রধান যে কাজটি করেছেন, তা মহৎ। চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামি লিগকে তিনি আজ তালামুক্ত করেছেন।’’
ইউনিয়ন আওয়ামি লিগের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনকে বলেন, ‘‘আমাদের নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে। সেখান থেকে যেন আমাদের রক্ষা করা হয়, সেই অনুরোধ জানাচ্ছি আমার মামা আবু দাউদ প্রধানের কাছে।’’ প্রাক্তন ছাত্রলিগ নেতা আনিসুজ্জমান স্বপনের কথায়, ‘‘বাংলাদেশের পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যদি কেউ ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করে, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই পরাজিত শক্তিকে আবারও নস্যাৎ করবো। দলমত নির্বিশেষে সবাই আমরা এলাকায় থাকতে চাই।’’
আবুল হোসেনের বক্তব্য, ‘‘এই অফিসটি জামাতের লোকেরা তালাবন্দি করে রেখেছিল। আজ আমরা আবু দাউদ প্রধান-সহ এলাকায় অনেক মানুষ নিয়ে অফিসটি খুলেছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলছে। এই অফিসটি আপাতত আমরা মুক্তিযোদ্ধারা ব্যবহার করব। আওয়ামি লিগের কোনও কার্যক্রম আপাতত এখানে হবে না।’’
এনিয়ে বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধান বলেন, ‘‘কিছুক্ষণ আগে আমি জানলাম আওয়ামি লিগের অফিসে তালা দেওয়া আছে। আগে জানলে আগেই ব্যবস্থা নিতাম। দীর্ঘ ১৮ বছর পর আমাদের বিজয় হয়েছে। স্বাধীনতার উভয়পক্ষের শক্তিগুলো এক হয়ে ম্যান্ডেট দিয়েছে। যার কারণে আমরা রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়েছি সারা বাংলাদেশে। আমি উভয় দলের নেতাকর্মীদের বলব, প্রত্যেক দলে কম-বেশি দুষ্টু প্রকৃতির লোক আছে। তাদের দল থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা রয়েছে। কোনও অবস্থাতেই আমাদের এলাকার শৃঙ্খলা কেউ যেন ভঙ্গ করতে না পারে। লিগের ভাইদের উদ্দেশে বলতে চাই, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আপনারা কোনও প্রকার অন্যায় করবেন না। যদি কেউ অন্যায় করে, আমাকে জানাবেন। আমি কোনও অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় দেব না।’’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের বক্তব্য, ‘‘এই অফিসটি জামাতের লোকেরা তালাবন্দি করে রেখেছিল। আজ আমরা আবু দাউদ প্রধান-সহ এলাকায় অনেক মানুষ নিয়ে অফিসটি খুলেছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলছে। এই অফিসটি আপাতত আমরা মুক্তিযোদ্ধারা ব্যবহার করব। আওয়ামি লিগের কোনও কার্যক্রম আপাতত এখানে হবে না।’’ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান বলেন, ‘‘এটা আমার দলের সিদ্ধান্ত নয়। এলাকায় যেন উত্তেজনা বিরাজ না করে শান্তিপূর্ণ রাখার জন্যই আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দিয়েছি। এর আগে জামায়াতয় এই অফিসটি তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। আমরা আজ খুলে দিলাম।’’
