ভোটে হেরেও মানুষের মন জিতে নিয়েছেন তিনি! বরিশাল-৫ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী। নির্বাচনে না জিতেও জনতার এতখানি ভালোবাসায় আপ্লুত তিনি। এবারে বাংলাদেশের ভোটে ৭৬ জন মহিলা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে সব থেকে বেশি করে আলোচনায় মনীষা। কেন?
শুক্রবার হারের খবর পাওয়ার পরেই বরিশালের সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানান গরিবের ডাক্তার হিসাবে পরিচিত মনীষা। তিনি বলেন, ২২ হাজার ৪৮৬ জন মানুষ প্রথাগত রাজনীতিকে নস্যাৎ করেছেন (এই সংখ্যক ভোট পেয়েছেন বাসদ প্রার্থী)। উল্লেখ্য, মনীষার বাবা এবং দাদা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। দিদি তন্দ্রা চক্রবর্তী আমেরিকা নিবাসী গবেষক। ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতিতে যুক্ত হন মনীষা। তিনি ২০১৮ সালে বরিশালের পৌরসভা ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। নির্বাচনের আগে মনীষা একশটি মাটির ব্যাঙ্ক বিতরণ করেন। বাসদের সাংবাদিক সন্মেলনে জানানো হয়, বরিশালের বিভিন্ন রিকশা গ্যারেজ, হোটেল ও বাসাবাড়িতে নির্বাচনী অর্থ সংগ্রহের জন্য শতাধিক মাটির ব্যাঙ্ক সরবরাহ করা হয়। সাধারণ মানুষ ২, ৫ কিংবা ১০ টাকা ব্যাঙ্কে জমা দিয়েছেন।
এক মাস আগে বিতরণ করা মাটির ব্যাঙ্কগুলোর একটি বড় অংশ ভোটের আগে সংগ্রহ করা হয়। এর মাধ্যমে দলটি প্রমাণ করে, ব্যবসায়ীদের হাতে নয়, সাধারণ মানুষের আর্থিক সাহায্যে নির্বাচন লড়েছে বাসদ। পাশাপাশি বিকাশ, নগদ ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও সাহায্য নেওয়া হয়েছে। ভোটগণনা শুরু হতেই সোশাল মিডিয়ায় প্রচার হয় বরিশাল-৫ আসনে মই প্রতীকের প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী বিজয়ী হতে চলেছেন। ভুয়ো তথ্য ভাইরাল হওয়া নিয়ে মনীষা লেখেন, "একটি অনলাইন গুজবের পরিপ্রেক্ষিতে জানাচ্ছি যে, বরিশাল-৫ আসনে আমি নির্বাচিত বা বিজয়ী হইনি। তবে নির্বাচনে বিজয়ী না হলেও জনগণের যে সমর্থন আমাদের প্রতি বেড়েছে, তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।" তিনি স্পষ্ট করেন, এই সমর্থন আগামী দিনের লড়াইকে শক্তিশালী করবে।
মনীষা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন করাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। অনুরাগীদের কাছে ‘গরিবের ডাক্তার’ নামে পরিচিত মনীষা ডাক্তারি পাশ করার পর থেকেই বিনা পয়সাতেই চিকিৎসা করছেন। মোটা মাইনের সরকারি চাকরি ছেড়ে সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত হয়েছেন। নাগরিকের অধিকার চাওয়ার দোষে ইতিমধ্যে জেল খেটেছেন মনীষা। ই-রিকশা ও ভ্যান চালকদের উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে ২০১৮ সালে জেলে যান তিনি।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ৭৬ মহিলা প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৭ জন জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জনই বিএনপির। দলের মনোনয়ন না পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্দল হিসেবে ভোটে দাঁড়ান ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তাঁকে দল থেকে বহিস্কারও করা হয়েছে। যদিও রুমিনই জয়ী হয়েছেন। বিজয়ী বাকি মহিলা প্রার্থীরা হলেন- মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খান রিতা, ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদির লুনা, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ, ফরিদপুর-৩ আসনে নায়াব ইউসুফ কামাল, নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমিন পুতুল।
