নির্বাচনে জিতে প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে মহম্মদ ইউনুস ও তাঁর সঙ্গী কট্টরপন্থীদের কড়া বার্তা দিলেন বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপি শীর্ষ নেতার সাফ কথা, 'বাংলাদেশে অপ্রীতিকর ঘটনা, বিশৃঙ্খলা মেনে নেওয়া হবে না। ধর্মের নামে উন্মাদনাকে বরদাস্ত করা হবে না। আইনের চোখে এদেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে।' পাশাপাশি শেখ হাসিনার নাম মুখে না নিয়েও তারেক বলেন, 'ফ্যাসিবাদ মেনে নেওয়া হবে না।' সবশেষ প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ার বার্তা দেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সাংবাদিক সম্মেলন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শনিবার দুপুরে ঢাকায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের বলরুমের সম্মেলনে তারেক বলেন, "নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পরেও দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকতে বলেছিলাম আমরা। যাতে করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তাই বিজয় মিছিল বের করতেও নিষেধ করছিলাম।" এর পরেই তাঁর বার্তা, "দেশে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। ধর্মের নামে উন্মাদনা মেনে নেওয়া হবে না। প্রত্যেক বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য আইন সমান। প্রতিষোধ কিংবা প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে আমরা। এটা ভিন্নমতের সকলের দেশ।" এইসঙ্গে 'ফ্যাসিবাদ মেনে নেওয়া হবে না' বলেও বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, "এবার দেশ গড়ার পালা। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন দুর্বলতা।"
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সাংবাদিক সম্মেলন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ২১২ আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি জোট। জামাত জোটে জিতেছে ৭৭টি আসন। নির্দল এবং বাকিরা মোট ৮টি আসনে জয় পেয়েছে। বলা বাহুল্য, ভূমিধস জয় পেয়েছে বিএনপি। এর পরেও রাস্তায় নেমে বিজয় উৎসব করেনি দলটি। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনেও সংযত বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। ইউনুস, জামাত, হাসিনাকে বার্তা দিলেও অতি আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেননি বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী। প্রশ্ন উঠছে, তাঁর এই আচরণ নিছক প্রাপ্ত মনস্কতা, নাকি আমেরিকা, চিন, ভারতের বৃহৎ শক্তিগুলির কূটনৈতিক চাপ?
