ভোটমুখী বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানাপড়েন চলছেই। সেই আবহে ওপারে এক হিন্দু শিক্ষকের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল কট্টরপন্থীদের বিরুদ্ধে। এই অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই শিক্ষকের বাড়ির লাখ লাখ টাকার সম্পত্তি।
সিলেটের গোঁয়াইঘাট উপজেলার বাসিন্দা বীরেন্দ্রকুমার দে নামে ওই শিক্ষকের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এলাকায় 'ঝুনু স্যর' নামেই পরিচিত বীরেন্দ্র। যদিও এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় স্থানীয় পুলিশ এবং দমকল। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু কী কারণে আগুন লেগেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক ভাবে অনুমান, শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, তারা স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, বীরেন্দ্রর বক্তব্য শর্টসার্কিট থেকেই আগুন লেগে থাকতে পারে।
যদিও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কট্টরপন্থীরা বীরেন্দ্রর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে থাকতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, এলাকায় সব সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেন। ফলে এলাকার কেউ শত্রুতাবশত বীরেন্দ্রের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেবেন না। এ কাজ কট্টরপন্থীদের বলেই মনে করছেন স্থানীয়দের একাংশ। যদিও বীরেন্দ্র নিজে এ কথা প্রকাশ্যে বলেননি।
সম্প্রতি বাংলাদেশে একের পর এক সংখ্যালঘু খুন এবং তাঁদের উপর অত্যাচার-নিপীড়নের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। কিছু দিন আগেই নয়াদিল্লিতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, "আমরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপরে লাগাতার উদ্বেগজনক হামলার ঘটনা দেখছি। তাঁদের বাড়ি, রুটিরুজির উপরেও চরমপন্থীরা হামলা করছে। এই ধরনের সাম্প্রদায়িক ঘটনা দ্রুততার সঙ্গে শক্ত হাতে মোকাবিলা করা উচিত। চিন্তাজনক প্রবণতা হল, এই ধরনের ঘটনাকে ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা অন্য কারণ বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে হামলার ষড়যন্ত্রকারীদের মনোবল বাড়বে। সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তার অভাব গভীর হবে।"
