আশঙ্কাই সত্যি হল। বাংলাদেশে বিএনপি সরকার গঠন এবং জামাত-ই-ইসলামি বিরোধী আসনে বসার মাস খানেকের মধ্যেই হম্বিতম্বি শুরু হল জামাতের। এবার তারা বিএনপির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল। বিএনপি সরকারকে সতর্ক করে জানিয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন অর্থাৎ জুলাই সনদ নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে তারা রাজপথে আন্দোলনে নামবে। বাংলাদেশ জামাত-ই-ইসলামির সহকারী সাধারণ সম্পাদক ড. হামিদুর রহমান আজাদ সরকারকে রবিবার পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। তারপরই আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। শনিবার রাজধানী ঢাকায় জামাত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে একথা ঘোষণা করেন।
জামাত নেতা হামিদুর রহমান আজাদ জানিয়েছেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য একদিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডাকা হলেও এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি, যা নিয়ে জোটের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার পরামর্শ দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।’’ তিনি জানান, আগামী ২৮ মার্চ জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হতে পারে। আজাদের আরও বক্তব্য, ‘‘জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতেই হবে।’’
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা আসন লাভ করে সরকার গঠন করেছে। তবে এবারও আগেকার মতো বিএনপির নির্বাচনী সঙ্গী হতে চেয়েছিল জামাত। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল অবধি বিএনপি-জামাত জোট গঠন করে সরকার গঠন করেছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বিএনপি সরকারে বসেছে এবং প্রথমবার বিরোধী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেছে কট্টর ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল জামাত-ই-ইসলামি। তাতেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে নিজেদের দাবিপূরণে বিরোধিতায় সরব হয়ে বিএনপি-কে নানাভাবে কাজে বাধা দেবে। শনিবার জামাত নেতা হামিদুর রহমানের বক্তব্যে সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়ে উঠছে।
