নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা: পদ্মাপাড়ের শরীয়তপুরের জাজিরায় ঘরে বোমা বিস্ফোরণ। বৃহস্পতিবার বিলাসপুর ইউনিয়নের ব্যাপারীকান্দি গ্রামের এই ঘটনায় প্রাণ হারালেন সোহান ব্যাপারী নামে এক যুবক। বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বসতঘর। উড়ে যায় টিনের চালা। ঘটনাস্থল থেকে আধ কিলোমিটার দূরের ফসলি জমিতে পাওয়া যায় সোহানের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ। নিহত সোহান ব্যাপারীকান্দি গ্রামের দেলোয়ার ব্যাপারীর ছেলে। এই ঘটনায় আরমান মোল্লা (৩২) ও মহম্মদ নবীন (২৮) নামে আরও দু'জন গুরুতর আহত হন। তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে পরে ঢাকা মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিস্ফোরণের ব্যাপারে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মদ বলেন,"খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে বিধ্বস্ত ঘর থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছি। বিস্ফোরণে ঘরের চালা উড়ে গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটেছে।" ওসি আরও বলেন, "ঘটনাস্থল থেকে আধ কিলোমিটার দূরে রসুনের খেত থেকে নিহত সোহানের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দেহটি কীভাবে সেখানে গেল সে বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি।" নিহত সোহানের বিরুদ্ধে মারামারি-সহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানান ওসি। সোহানের বোন মাজেদা আক্তার জানান, স্থানীয় নাসির ব্যাপারীর সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের ঝগড়াঝাটি চলছিল। সোহানের নামে মামলা থাকায় তিনি বাড়িতে থাকতে পারতেন না। এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে পালিয়ে পালিয়ে থাকতেন। বুধবার রাত ১১টা নাগাদ সোহান বাড়ি থেকে বেরন। বৃহস্পতিবার সকালে ফসলি জমিতে ভাইয়ের দেহ পড়ে থাকার খবর শুনে তিনি এসেছেন। স্থানীয়রা জানান, দু'মাস আগে আবু সিদ্দিক ব্যাপারীর ছেলে সাগর ব্যাপারী ওই টিনের ঘরটি তৈরি করেছিলেন।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের বুধাইরহাট বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় জাবেদ শেখ নামে বছর কুড়ির একজন আহত হন। এদিন অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় চার বালতি ককটেল উদ্ধার করে জাজিরা থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী জলিল মাদবরের অনুসারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়েছিল। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই দুই ব্যক্তির সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময় তাদের সমর্থকদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় দু'পক্ষই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটত। গত বছরের ৫ এপ্রিল ও ২ নভেম্বর বিলাশপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় পুলিশ কুদ্দুস ব্যাপারী, জলিল মাদবর ও তাদের বেশ কয়েকজন সমর্থকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করে। জলিল মাদবর ও কুদ্দুস ব্যাপারী দু'জনেই জেলে ছিল। পরবর্তীতে ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপরী জামিনে মুক্তি পান। জলিল মাদবর জেলবন্দি। স্থানীয়রা জানান, নিহত সোহান কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থক।
