সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশে অব্যাহত রাজনৈতিক হিংসা। এবার ঢাকায় গুলি করে এক বিএনপি নেতাকে খুনের (Bangladesh BNP Leader Dead) অভিযোগ উঠল একদল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার তেজতুরী বাজার এলাকায়। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও এক নেতা। কয়েকদিন আগেই যশোরে একইভাবে দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হন আলমগির হোসেন নামে এক বিএনপি নেতা। সেই রেশ কটাতে না কাটতেই বাংলাদেশে ফের নিশানায় খালেদা জিয়ার দল।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মৃতের নাম আজিজুর রহমান মুসাব্বির। তিনি বিএনপি-র শাখা সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ছিলেন। এদিন রাতে তেজতুরী বাজার এলাকায় আচমকা তাঁর উপর চড়াও হয় কয়েকজন দুষ্কৃতী। আজিজুরকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালায় আততায়ীরা। এরপরই সেখান থেকে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় বিএনপি নেতাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পাশাপাশি, দুষ্কৃতীদের গুলিতে হয়েছেন আরও এক নেতা। তাঁর নাম আবু সুফিয়ান মাসুদ। তিনি কারওয়ান বাজার ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। তার আগে দেশে রাজনৈতিক হিংসা চরমে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোট বানচাল করতেই বড় এই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কিন্তু এসবের নেপথ্যে কে? বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের বক্তব্য, গোটা চক্রান্তের নেপথ্যে থাকতে পারে জামাত। সম্প্রতি জামাতের তরফে জানানো হয়েছে, দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নেই। সোমবার একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জামাত। সেখানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি ‘দলদাস’ সরকারি কর্মকর্তা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
শেখ হাসিনার পতন এবং আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ হওয়ায় বাংলাদেশে এখন স্পষ্টত দু’পক্ষ। একদিকে বিএনপি। বিপরীত পক্ষ কট্টরপন্থী জামাত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের রাজনৈতিক দল এনসিপি এবং আরও কয়েকটি ইসলামপন্থী গোষ্ঠী। বিশ্লেষকদের মতে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপির দিকে আমজনতার সমর্থন আরও বেড়েছে। এই অবস্থার আঁচ পেয়েই আগেভাগে প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ তুলছে জামাত নেতৃত্ব। হাওয়া বুঝে নির্বাচন পিছনোর কৌশল করছে তারা।
