সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ফের গৃহযুদ্ধে অশান্ত ভোটের মায়ানমার। দেশের অন্দরে জুন্টা সেনাবাহিনী ও রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে ধুন্ধুমার লড়াইয়ের প্রভাব ছড়াল সীমান্তের এপারে অর্থাৎ বাংলাদেশের টেকনাফেও। ওপার থেকে ছুটে আসা গোলাগুলিতে প্রাণ গেল এক বাংলাদেশি শিশুর। আতঙ্কে কাঁপছেন সীমান্তের বাসিন্দারা। সীমান্ত সংঘর্ষ থেকে বাঁচতে ফের টেকনাফে আশ্রয় নিচ্ছেন রোহিঙ্গারা। সবমিলিয়ে, মায়ানমারে নির্বাচন ঘিরে নতুন করে অশান্তির আঁচ বাংলাদেশেও।
সামরিক শাসক জুন্টার অধীনস্ত মায়ানমারে ভোট চলছে। রবিবার, ১১ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছেন সাধারণ বাসিন্দারা। কিন্তু তার আগে থেকেই দেশের অন্দরে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। রাখাইন প্রদেশের হোয়াইকংয়ের এই ধুন্ধুমার পরিস্থিতিতে সীমান্ত পেরিয়ে গোলাগুলি আছড়ে পড়ছে বাংলাদেশের টেকনাফেও। সেখানে মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ছোড়া গুলিতে মৃত্যু হয়েছে আফনান নামে এক শিশুর। এই খবর নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ থানার পুলিশ প্রধান সাইফুল ইসলাম।
শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত বারবার বিস্ফোরণ, গুলির শব্দে টেকনাফে আতঙ্কের পরিবেশ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এপারের বাড়ি-ঘর কেঁপে উঠছে। ওপার থেকে ছোড়া গুলি এসে পড়েছে তাঁদের চিংড়ির ভেড়ি ও চাষের জমিতেও। মহিলা, শিশুরা ভয়ে কাঁপছেন। রাতে বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন সকলে। আলমগির হোসেন নামে এক বাসিন্দার কথায়, “সারারাত আমরা জেগে ছিলাম, একেকটি বিস্ফোরণে বাড়িঘর কেঁপে উঠছিল। নারী ও শিশুরা ভয়ে কাঁদছিল।” রাখাইন প্রদেশ থেকে সীমান্তে পেরিয়ে পালিয়ে আসা এক রোহিঙ্গা বলেন, “সশস্ত্র গোষ্ঠী ও আরাকান আর্মির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হচ্ছে। আমি নিরাপদে পালিয়ে এসেছি।”
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু জানান, গত তিনদিন ধরে সীমান্তে দিনে-রাতে গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণ চলছে।
