ইউনুস আমল থেকে বাংলাদেশে (Bangladesh) যে সংখ্যালঘু নির্যাতন শুরু হয়েছিল, সেই ধারা অব্যাহত তারেক রহমানেরও শাসনকালেও। এবার বাউল গানের আসরে হামলার অভিযোগ। রবিবার রাতে হামলায় পণ্ড হলো সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে বাউল গানের আসরটি। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এভাবে বাউল গানের আসর বসালে আরও ভয়াবহ হামলা বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এই হামলার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও তার সত্যতা যাচাই করেনি 'সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল'।
ঘটনা রবিবার রাতের। বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে ইব্রাহিম শাহ মাজারের পাশে একটি গানের আসর বসেছিল। হামলার একটি ভিডিও সোমবার সকাল থেকে সোশাল মিডিয়ায় ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। আয়োজকদের মতে, ইব্রাহিম শাহ মাজারকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০০ বছর ধরে নির্দিষ্ট একটি সময়ে বাউলগানের আসর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলের ভক্ত, দর্শনার্থীরা অংশ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও তিনদিনব্যাপী বাউলগানের আসরের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন, রবিবার রাতে হঠাৎ শতাধিক লোক সংঘবদ্ধ হয়ে সেখানে হামলা চালিয়ে বাউলগানের আসর পণ্ড করে দেয়।
মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনা নিয়ে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। ঘটনা মাজারের ভিতরে নয়, মাজারের মূল ভেন্যুর বাইরে গ্রামের পাশে তৈরি করা একটি মঞ্চে গানবাজনা হচ্ছিল। এতে স্থানীয়দের ঘুমের ব্যাঘাত হচ্ছিল, তারা এসে গান বন্ধ করে দিয়েছে। ফেসবুক ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারীরা বাউলগানের আসরের মঞ্চে উঠে এলোপাথাড়ি ভাঙচুর শুরু করেন। তাঁরা মঞ্চে থাকা বাদ্যযন্ত্র ও সাউন্ড সিস্টেম ভেঙে ফেলেন। এছাড়া দর্শনার্থীদের বসার জন্য রাখা চেয়ারও তাঁরা ভাঙচুর করেন। হামলাকারীরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে নানা ধরনের স্লোগান দেন। পরে তাঁরা আবার মিছিল করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে যান।
ঘটনার পর মাজারের খাদেম দুদু মিয়া অভিযোগ করেন, প্রায় ১০০ বছর ধরে মাজারকে ঘিরে ওরস অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। এতে প্রতি বছরই সিলেটের বিভিন্ন এলাকার ভক্তরা আসেন। রবিবার রাতে হঠাৎ এক ব্যক্তি তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গ ও আত্মীয়স্বজন নিয়ে এসে গানের আসরে হামলা চালান। হামলাকারীরা ঘটনার আগে মাজার কর্তৃপক্ষকে কোনও অভিযোগ করেননি। পরে হামলাকারীরা ঘটনাটি ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে সোমবার ভোরে পাশের মসজিদের জানলার কাচ ভাঙচুর করে মাজারের ভক্তদের এই ঘটনায় দোষারোপ করেন।
এ ব্যাপারে ওসি গাজী মাহবুবুর রহমান জানান, মাজার কিংবা ভেন্যুতে কিছু হয়নি। তাদের অনুষ্ঠান চলছে। আজ সকালে অনুষ্ঠান শেষে সবার ফেরার কথা। মূল ভেন্যুর বাইরের ঘটনা এটা। তবে উভয় পক্ষই নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে। রাতে গান বাজিয়ে যেমন ঘুমের ব্যঘাত ঘটানো ঠিক হয়নি, তেমনি অপর পক্ষের গানবাজনা বন্ধ করাও ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেছে। স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষই বিষয়টি সমাধান করে নেবে বলে জানান ওসি।
