সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নির্বাচনের ঠিক আগে হানাহানির রাজনীতি তুঙ্গে উঠেছে বাংলাদেশে। ঢাকায় ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডেরই যেন পুনরাবৃত্তি ঘটল যশোরে। যশোরের বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালাল আততায়ীরা। ঘটনাস্থল থেকে কোনওক্রমে উদ্ধার করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। মৃত নেতার নাম আলমগির হোসেন। তিনি যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নগর বিএনপির প্রাক্তন সদস্য। কে বা কারা, কী কারণে তাঁর উপর এই হামলা চালাল, তার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এখনও অধরা অভিযুক্তরা। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এহেন হিংসাত্মক পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত আমজনতা।
পুলিশ ও মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যার পর আলমগির একটি মোটরসাইকেলে চড়ে শংকরপুর এলাকার বটতলা থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। হুদা মেমোরিয়াল অ্যাকাডেমির সামনে পৌঁছলে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন তাঁকে ঘিরে ধরে আক্রমণ করে। আলমগিরের মাথা লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বিএনপি নেতাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আলমগিরের ভাই জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, ‘‘আমার ভাইয়ের তেমন কোনও শত্রু ছিল না। তিনি এলাকায় সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। কে তাঁকে গুলি করে মারল, আমরা বুঝতে পারছি না। গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখি, তাঁর লাশ পড়ে রয়েছে।’’ তবে কি ব্যবসায়িক শত্রুতায় খুন হলেন আলমগির নাকি রাজনৈতিক কারণ? খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এনিয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবুল বাশার জানান, কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। তবে ওই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তির রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক শত্রু কারা ছিল, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিএনপির খুলনার সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থানীয় প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলামের প্রতিক্রিয়া, ''ফ্যাসিস্ট আওয়ামি লিগের শাসনকালে পরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতা–কর্মীদের হত্যা করা হয়েছে। একই কায়দায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও বিএনপি নেতা–কর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে, যা নিন্দনীয় ও গণতন্ত্রবিরোধী।''
