নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভের পর লাইনচ্যুত বাংলাদেশকে ট্র্যাকে ফেরানোর গুরুভার এখন বিএনপি প্রধান তারেক রহমানের কাঁধে। দেশের অভ্যন্তরে বেলাগাম হিংসা, বিদ্বেষ, বৈষম্যের পাশাপাশি 'বিভ্রান্ত বিদেশনীতি' কীভাবে সামলাবে নয়া সরকার? চিন-পাকিস্তান না কি অতীতের মতো ভারতকেই বেছে নেওয়া হবে? শনিবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে তারই আভাস দিলেন বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী। দেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বিদেশনীতি প্রসঙ্গে জানালেন, 'কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখবে বাংলাদেশ। কারও প্রতি বিশেষ পক্ষপাতিত্ব করব না।'
হাসিনা সরকারের পতনের পর গত দেড় বছরের ইউনুস জমানায় বহু পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশে। হিংসা, খুন, সংখ্যালঘু নির্যাতন, মৌলবাদের দাপাদাপি মিলিয়ে দেশটি 'মবের মুলুকে' পরিণত হয়েছিল। শুধু তাই নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলে পাকিস্তানের সঙ্গে দহরম মহরম বাড়িয়েছিল ইউনুসের সরকার। উসকানি দেওয়া হচ্ছিল ভারত বিদ্বেষের আগুনে। গুরুতর এই পরিস্থিতি পেরিয়ে শনিবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে তারেক বলেন, "বাংলাদেশ তার কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখবে এবং কারও প্রতি কোনও পক্ষপাতিত্ব করব না। দেশের স্বার্থই সবার আগে। প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা হবে।"
তারেক জানান, "বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থরক্ষাই আমাদের লক্ষ্য। দেশের স্বার্থের সঙ্গে আপস করে কোনও কিছুই হবে না। চিনের প্রকল্প আমাদের দেশের অর্থনীতির জন্য কতখানি লাভজনক খতিয়ে দেখে তারপর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব আমরা।"
সাম্প্রতিক সময়ে চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছিলেন মহম্মদ ইউনুস। হাসিনা আমলে চিনের 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিসিয়েটিভ' বা 'বিআরআই'-এর বিরোধী ছিল বাংলাদেশ। সরকার বদলের পর এবার কি চিনের প্রস্তাবে রাজি হবে দেশ। উত্তরে তারেক স্পষ্টভাষায় জানান, "বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থরক্ষাই আমাদের লক্ষ্য। দেশের স্বার্থের সঙ্গে আপস করে কোনও কিছুই হবে না। এই প্রকল্প আমাদের দেশের অর্থনীতির জন্য কতখানি লাভজনক খতিয়ে দেখে তারপর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব আমরা।" পাশাপাশি চিন প্রসঙ্গে বলেন, "চিন আমাদের বন্ধু। এবং আমরা আশা করি ভবিষ্যতে আমরা একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করব ।"
এছাড়াও হাসিনা ইস্যুতেও এদিন মুখ খোলেন তারেক। শেখ হাসিনার বিদায়ের পর। ভারতের উপর লাগাতার চাপ বাড়িয়েছে মহম্মদ ইউনুসের সরকার। এই ইস্যুতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও ঠোকাঠুকি লেগেছে। বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফের কী একই নীতি নিয়ে এগোবেন তারেক। এই প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আইন সকলের জন্য সমান। ফলে আইন তার নিজের মতো কাজ করবে।" তবে ভারতের সঙ্গেও যে আগের মতোই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে সে কথাও স্পষ্ট করে দেন তারেক রহমান।
