অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের শীতলতা কাটিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী কি নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে? সেই উত্তরের খোঁজে নজর ১৮ এপ্রিলের দিকে। ইউনুস আমলে শেষ হতে চলা গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি নবীকরণের লক্ষে ওইদিন বৈঠকে বসছেন দু'দেশের দুই বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর ও খলিলুর রহমান। ঢাকার নতুন সরকারের সঙ্গে দিল্লির এই প্রথম 'হাই-লেভেল' বৈঠক নিয়ে কূটনৈতিক মহলে চলছে জোর চর্চা।
নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলাদেশের মসনদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার। ইউনুসের অন্তবর্তী সরকারের শাসনকালে ভারতের সঙ্গে যে চরম শত্রুতা ও অবিশ্বাসের শিকড় ছড়িয়ে পড়েছিল, তা হঠিয়ে নরেন্দ্র মোদি এবং তারেক রহমান দেশের মানুষের স্বার্থের কথা মাথায় সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিয়েছেন। ইতিমধ্যে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বৈঠক করেছেন, দিল্লিতে সফরও করেছেন। অর্থাৎ ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। এবার গঙ্গার জলবন্টন চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে অচিরেই আলোচনায় বসছে দুই দেশ। কেননা গঙ্গা নদীর জল বন্টন চুক্তিটি শেষ হওয়ার মুখে। তাই মেয়াদ বৃদ্ধির চুক্তি এই বৈঠক হবে। এই লক্ষ্য নিয়ে এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখে ভারত সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দিল্লিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা।
প্রসঙ্গত, আগামী ডিসেম্বর মাসেই শেষ হচ্ছে ঐতিহাসিক গঙ্গা জলচুক্তির মেয়াদ। তার আগেই এই বন্টন ইস্যুতে বড় কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় দুই দেশ। বিশেষ করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই বৈঠক হবে দুই দেশের মধ্যে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রেখে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ফের মসৃণ করতে আগ্রহী। বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও বৈঠকে বসতে পারেন তারেক রহমান।
