শুটআউটে ভাইকে হারিয়ে ইউনুস প্রশাসনকে দায়ী করেছিলেন দিশেহারা পরিবার। বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে 'ড্যামেজ কন্ট্রোল' করতে সেই ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির দাদাকে বড় চাকরি দিল ইউনুসের অন্তর্বর্তী প্রশাসন। ওমর বিন হাদিকে ব্রিটেনের বার্মিংহামে বাংলাদেশে সহকারী হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হল। বৃহস্পতিবার ইউনুসের জনপ্রশাসন মন্ত্রকের বৈদেশিক নিয়োগ শাখার বিজ্ঞপ্তিতে এই নিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে শুটআউটের পর তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। সেইমতো এবার তাঁর পরিবারের সদস্যকে চাকরি দিলেন তিনি।
বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে 'ড্যামেজ কন্ট্রোল' করতে সেই ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির দাদাকে বড় চাকরি দিল ইউনুসের অন্তর্বর্তী প্রশাসন। ওমর বিন হাদিকে ব্রিটেনের বার্মিংহামে বাংলাদেশে সহকারী হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হল।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওমর বিন হাদিকে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছরের মেয়াদে হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব পদে নিয়োগ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আবুল হায়াত মহম্মদ রফিক ১৫ জানুয়ারি এই বিজ্ঞপ্তিতে সই করেন। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশে বলা হয়েছে, নিয়োগের অন্য শর্তাবলি সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ওই পদে থাকাকালীন ওমর বিন হাদি অন্য কোনও পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি কোনও প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কোনও ধরনের সম্পর্ক রাখতে পারবেন না। অর্থাৎ, এই মেয়াদে তাঁকে সম্পূর্ণ লিয়েন বা পেশাদারি বিচ্ছিন্নতা বজায় রেখে স্রেফ সরকারি দায়িত্ব পালন করতে হবে।
শরিফ ওসমান হাদি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির নেতাদের একজন ছিলেন। গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ গঠন করেন। সংগঠনের মুখপাত্রের দায়িত্বে ছিলেন হাদি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন হাদির উপর প্রাণঘাতী হামলা চলে।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন এলাকার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতীরা দুপুরে ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তিনি মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক জখম হন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় হাদির।
