আসনরফা নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই জামাত নেতৃত্বাধীন জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিল ‘ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ’। প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা চরমোনাই পিরের নেতৃত্বাধীন এই দলটি শুক্রবার জানিয়ে দিল, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে চলেছে, তাতে তারা একাই লড়বে। জামাত ইসলামি আদর্শ থেকে বেরিয়ে সরে এসেছে, এই যুক্তি দেখিয়ে সঙ্গত্যাগ করেছে ওপার বাংলার রাজনীতিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ইসলামপন্থী দলটি। তারা জানিয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে ২৬৮টি আসনে হাতপাখা আসনে লড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাচক্রে, গত কয়েক দিন ধরেই আসন ভাগাভাগি নিয়ে জামাতের সঙ্গে বিবাদ চলছিল ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ। তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদের ২৫৩টিতে একতরফা ভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেন জামাত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং তাদের সহযোগী দলগুলির প্রতিনিধিরা। এতে আরও ক্ষুব্ধ হয় ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ। জানিয়েছিল, শুক্রবার তারা নিজেদের অবস্থান জানাবে। সেই মতো ঢাকার পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে জামাত নেতৃত্বধীন জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসার কথা জানায় তারা।
দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজি আতাউর রহমান বলেন, "খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈঠকে জামাত প্রচলিত ইসলামি আইনে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অথচ ইসলামি আন্দোলন শরিয়াহ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতি করে। অর্থাৎ, দুই দলের মধ্যে মতের মিল নেই।" তিনি আরও বলেন, "জামাতের আমির বিএনপির নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলছেন। এর অর্থ হল— তারা সমঝোতার পথে হাঁটছে। দীর্ঘদিন পর মানুষ একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আশায় ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে মনে হচ্ছে না।"
আতাউর বলেন, "গত ৯ ডিসেম্বর জামাত আমির ও পীর সাহেবের একান্ত বৈঠকে প্রথম আলোর একটি জরিপের কথা টেনে বলা হয়— ইসলামি আন্দোলনের ভোট ‘জিরো দশমিক সামথিং’। এই মন্তব্যে পীর সাহেবকে অপমান করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই ইসলামি আন্দোলন বিকল্প সিদ্ধান্তের কথা ভাবতে শুরু করে।” তিনি জানান, ভবিষ্যতে ইসলামপন্থী কোনও দল বা শক্তি ইসলামি আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতা করতে চাইলে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে।
