ভারতের বিরুদ্ধে জনতাকে খেপিয়ে তুলতে ব্যস্ত মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। ছাত্রনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুতে দুঃখপ্রকাশ করেও বাংলাদেশের বর্তমান অরাজক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন আওয়ামি লিগ নেত্রী তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই বিষয়ে মুজিবকন্যার সাফ কথা, "বাংলাদেশের বর্তমান বিশৃঙ্খলতার সঙ্গে এই ঘটনা সরাসরি জড়িত।"
হাদির মৃত্যুর পর পদ্মাপাড়ে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়েছিল। হামলা হয় চট্টগ্রামের ভারতীয় দূতাবাসে, সংবাদমাধ্যমে, বঙ্গবন্ধুর মুজিবর রহমানের বাড়িতে, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটেও ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরায় মৌলবাদীরা। ছাত্রনেতাকে খুনের প্রতিবাদের নামে নিশানা করা হয় সংখ্যালঘুদের। এই গোটা অবস্থা নিয়ে হাসিনার বক্তব্য, "ওসমান হাদির মৃত্যু দুঃখজনক। তবে বাংলাদেশের বর্তমান বিশৃঙ্খলতার সঙ্গে এই ঘটনাটি সরাসরি জড়িত। আইনের শৃঙ্খলা না থাকার জন্যই বাংলাদেশ এই অন্তর্বর্তী সরকারের গ্রাসে পড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় অপারগ, তাও স্পষ্ট। যেটুকু জেনেছি- বিএনপি, জামায়াতে এবং এনসিপি পরস্পরের সঙ্গে নির্বাচনী হিংসা ও সংঘাতে লিপ্ত।"
বাংলাদেশের রাজনৈতিক আঙিনায় ইদানীংকালে ভারতবিদ্বেষ কয়েক গুণ বেড়েছে। জামাতের মতো কট্টরপন্থীরা বারবার হাসিনাকে ভারতের কাছের লোক বলে 'কুৎসা' করছে। হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর দাবি তোলা হচ্ছে। এরপরেও নিজের অবস্থান থেকে সরছেন না মুজিবকন্যা। তাঁর মতে বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হল ভারত। তিনি বলেন, "নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের পথে না হেঁটে অন্তর্বর্তী সরকারের সমর্থকরা সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বাংলাদেশের নিকটতম বন্ধু ভারতের বিরুদ্ধে জনতাকে খেপিয়ে তুলতে ব্যস্ত।" এখানেই না থেমে হাসিনার দাবি, বিরোধী কণ্ঠরোধে, ভিন্নমতাবলম্বীদের ভয় পাওয়াতে পরিকল্পিত ভাবে বাংলাদেশকে 'মবের মুলুক' বানানো হচ্ছে। তিনি বলেন, "বাংলাদেশকে মবের মুলুক বানাতে চাইছে তারা। সংবাদপত্রের অফিস জ্বালানো হয়েছে। একাধিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। কূটনীতিকদের অপমান ও হয়রান করা হয়েছে। হাদির সুবিচারের সঙ্গে এসবের যোগ কোথায়? ন্যায়বিচার প্রার্থনা করার আড়ালে এই যে সংগঠিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হল- তা তো আদতে ভিন্নমত পোষণকারী কণ্ঠস্বরকে আতঙ্কিত, নীরব ও নির্মূল করার জন্যই পরিকল্পিত।"
অন্তর্বর্তী সরকার যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় অপারগ, তাও স্পষ্ট। যেটুকু জেনেছি- বিএনপি, জামায়াতে এবং এনসিপি পরস্পরের সঙ্গে নির্বাচনী হিংসা ও সংঘাতে লিপ্ত।
হাসিনা পরবর্তী সময়ে একদিকে যেমন ভারতকে শত্রুদেশ হিসাবে তুলে ধরেছে জামাত এবং ইউনুস সরকারের কাছের লোকেরা, তেমনই একাত্তরের বাঙালি হত্যাকারী এবং ধর্ষক পাকিস্তানকে বন্ধু বানিয়েছে। অতি দ্রুত ভোল বদল ফেলছে ঢাকা। এইসঙ্গে হাসিনাকে স্বৈরাচারি শাসক হিসাবে তুলে ধরে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন বলা হচ্ছে। যদিও হাসিনার দাবি, "আওয়ামি লিগের জমানায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছিল। সাংবাদিকরা নির্ভয়ে, কোনও হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারতেন। আর এখন? নাগরিক পতন প্রত্যক্ষ করছি।" বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী যোগ করেন, "অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের নাগরিকদের আর সুরক্ষা দিতে পারছে না। এদিকে, চরমপন্থীরাও বুঝে গিয়েছে- তাদের শাস্তি দেওয়ার আসলে কেউ নেই, ফলে তারা আরও নির্ভীক, আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে।"
এই পরিস্থিতিতে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের সংসদীয় নির্বাচনে আদৌ কোনও বদল আনবে কি পদ্মাপাড়ে? আওয়ামি লিগ এবং তাদের নেত্রী শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎই বা কী? এমন সব কঠিন প্রশ্নের উত্তর জানে একজনই। সে হল সময়।
