বাংলাদেশে ভোটের লড়াই আরও জমজমাট। দলের পর দল খুলে চলেছে দিশাহীন ছাত্রছাত্রীরা। বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা মিলে তৈরি করেছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। আসন্ন নির্বাচনে নিজেদের শক্তিতে লড়াইয়ের বদলে শীর্ষ নেতৃত্ব জামাতের হাত ধরে জোটের পথে হাঁটে। এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে দলের একটা বড় অংশ দল ছেড়ে বেরিয়ে যায়। এবার শোনা যাচ্ছে, এই দলত্যাগী ছাত্রনেতারা মিলে ফের আলাদা রাজনৈতিক দল গড়ছেন, যার নাম হতে চলেছে 'জনযাত্রা'। তার দায়িত্বে কারা থাকবেন, তাও প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়ে গিয়েছে। আগামী ১৬ জানুয়ারি ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দলটির আত্মপ্রকাশ করার কথা।
এবার শোনা যাচ্ছে, এই দলত্যাগী ছাত্রনেতারা মিলে ফের আলাদা রাজনৈতিক দল গড়ছেন, যার নাম হতে চলেছে 'জনযাত্রা'। আগামী ১৬ জানুয়ারি ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দলটির আত্মপ্রকাশ করার কথা।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এনসিপির সদ্য প্রাক্তন যুগ্ম আহ্বায়ক অনীক রায়, যুগ্ম সদস্য সচিব তুহিন খান এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রাক্তন কো-অর্ডিনেটর নাজিফা জান্নাত নতুন এই প্ল্যাটফর্মে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবেন। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংসদ সভাপতি মেঘমল্লার বসুও ‘জনযাত্রা’ দলে থাকবেন বলে জানা যাচ্ছে। নয়া রাজনৈতিক দল গঠন নিয়ে উদ্যোক্তাদের দাবি, তাদের লক্ষ্য দেশে ভিন্ন ধারার ও বিকল্প রাজনৈতিক চর্চা।
এনিয়ে নিজের মতামত স্পষ্ট করেছেন মেঘমল্লার বসু। তাঁর কথায়, ‘‘নিপীড়িত মানুষের হয়ে কথা বলার জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি মঞ্চ গড়ার প্রস্তুতি চলছিল। তা পূরণ হতে চলেছে। এখন এর বেশি কিছু বলতে চাই না।'' অনীক রায়ের বক্তব্য, ''বিভিন্ন সময় ব্যক্তি উদ্যোগে আন্দোলন করা মানুষ, ছাত্র সংগঠনের নেতা-সহ নানা অভিজ্ঞ মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে প্ল্যাটফর্মটি সাজানো হচ্ছে। জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক, নির্বাচিত ছাত্র সংসদের নেতা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল যাঁদের, তাঁরা অনেকেই এখানে থাকবেন।’’
এনসিপির সদ্য প্রাক্তন যুগ্ম আহ্বায়ক অনীক রায়, যুগ্ম সদস্য সচিব তুহিন খান এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রাক্তন কো-অর্ডিনেটর নাজিফা জান্নাত নতুন এই প্ল্যাটফর্মে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবেন।
নতুন দলের কার্যক্রম কী হতে চলেছে? সে সম্পর্কে বিশেষ কিছু এখনই জানাতে নারাজ প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা। নির্বাচনের আগে অন্তত ৬ মাস থেকে একবছর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সক্রিয় থাকাই আপাতত লক্ষ্য। মূলত নীতি নির্ধারণ, নাগরিকদের সংগঠিত করা, বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে ভূমিকা এবং তৃণমূল স্তরে সংগঠন গড়ে তুলতে হবে তাদের। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরই তাদের দল পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে শক্ত মাটির উপর দাঁড়াতে পারবে। এর আগে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি প্রণয়ন করা হবে।
এনসিপি থেকে বিচ্ছিন্ন নতুন ছাত্রদের দল নিয়ে ইতিমধ্যে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। যেখানে বাংলাদেশে তীব্র মৌলবাদী হাওয়া, সেখানে 'জনযাত্রা' কি উদারপন্থার পথে হাঁটতে পারবে? যে জামাতের সঙ্গে ছাত্রদের দল এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব হাত মেলানোর প্রতিবাদেই দলত্যাগ করেছিলেন তাঁরা। বিকল্প রাজনৈতিক চর্চার যে লক্ষ্য নিয়ে তাঁরা নতুন দল গড়ছে, সেই বিকল্প আসলে কী? এই মুহূর্তে ভোটমুখী বাংলাদেশে তাদের 'ভিন্ন ধারা' জনমানসে কতটুকুই বা প্রভাব ফেলবে? সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশে হারিয়ে হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতি চর্চা ফেরাতে সক্ষম হবে কি তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক দলটি? এসব জানতে চাইবেন সে দেশের সংবেদনশীল জনতা।
