বিএনপি ও জামাত। নির্বাচনী ময়দানের যুযুধান দুই পক্ষ। লড়াই ছিল হাড্ডাহাড্ডি। কে সরকার গড়বে তা নিয়ে ছিল বিস্তর জল্পনা। যদিও বাজমাত করেছে তারেক রহমানের বিএনপি। তবে নির্বাচন শেষে যাবতীয় রেষারেষি ভুলে জামাতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তাঁর বাসভবনে গেলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। রবিবার সন্ধে ৭টা দিকে জামাতের আমিরের বসুন্ধরার বাড়িতে যান তারেক। এর পর নাহিদ ইসলামের বাড়িতেও যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। প্রশ্ন উঠছে, শপথগ্রহণের কোন কৌশল নিচ্ছেন খালেদাপুত্র?
এদিন সন্ধ্যায় আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাড়িতে জামাতের নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মহম্মদ তাহের ও সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরa উপস্থিত ছিলেন। অন্য তারেকের সঙ্গী হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির। সৌজন্য সাক্ষাৎকালে শফিকুরকে পুষ্পস্তবক উপহার দেন তারেক রহমান। উভয়পক্ষের কী কথা হয়েছে তা অবশ্য জানা যায়নি। বিএনপি সূত্রে খবর, এর পর নাহিদ ইসলামের বাড়িতে যাবেন তারেক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সুসস্পর্ক রেখেই মসনদে বসতে চাইছেন খালেদাপুত্র। নতুন করে দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি হোক, চাইছেন না তিনি। যদিও নির্বাচন পরবর্তী দু’দিনে বাংলাদেশের ৩০টি জেলায় দুই শতাধিক হিংসর ঘটনা সামনে এসেছে। নিহত অন্তত ৩ জন। আহত তিনশোর বেশি মানুষ। শফিকুর-তারেক সাক্ষাতের পরে কি তা কমবে?
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯ আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জোটের শরিকদের আরও ৩টি আসন মিলিয়ে বিএনপি জোটের বর্তমান আসনসংখ্যা ২১২। দীর্ঘ দেড় দশক পর এমন ‘ভূমিধস’ বিজয় দলটির কর্মী-সমর্থকদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন তারেক রহমান।
