shono
Advertisement
Kalna

'খুনি' স্ত্রীকে বাঁচানোর ব্যর্থ চেষ্টা, মায়ের দেহ নিয়ে গল্প ফেঁদেও পুলিশের জালে গুণধর

ছেলে ও পুত্রবধূকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
Published By: Sayani SenPosted: 12:00 AM Feb 26, 2026Updated: 12:03 AM Feb 26, 2026

'খুনি' স্ত্রীকে বাঁচাতে মৃতা মায়ের কান কেটে গয়না সরিয়ে ফেলে ছেলে! শুধু তাই নয়, প্রতিবেশীদের খুনি সাজাতে স্ত্রীকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে প্রতিবেশীদের বাড়ির গলিতে মায়ের মৃতদেহ নিয়ে গিয়ে ফেলে দেয়। এরপর প্রতিবেশীদের দিকেই সন্দেহের তির ছুড়ে সোনার গয়নার লোভে মাকে খুন করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগও করে তারা। এত কাণ্ডের পরেও শেষরক্ষা হয়নি। অবশেষে পুলিশের জালে অভিযুক্ত বউমা-সহ বৃদ্ধার ছোট ছেলে। প্রায় এক মাস আগে নাদনঘাট থানার নসরতপুর জালুইডাঙার এমনই এক রোমহর্ষক ঘটনায় পুলিশ গুণধর ছেলে সুকান্ত ঘোষ ও তার স্ত্রী চন্দনা ঘোষকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের বুধবার কালনা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের পাঁচদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্বস্থলী ১ ব্লকের জালুইডাঙার ষাটোর্ধ বয়সী বাসিন্দা লক্ষ্মী ঘোষ তিনি তার স্বামী সহ দুই ছেলে-বউমাদের নিয়ে সুখের সংসার গড়ে তুলেছিলেন। একই বাড়িতে থাকলেও দুই ছেলে পৃথক। ব্রেন স্ট্রোকের পাশাপাশি ভুল বকার মত বিভিন্ন কারণে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন লক্ষ্মীদেবী। বর্তমানে তিনি সংসারের বোঝা হয়ে উঠেছিলেন। বিভিন্ন কারণে ছোট বউমা চন্দনার ঘোষের সঙ্গে তার বেশিরভাগ সময় অশান্তি লেগেই থাকত। অনেক সময় তাকে বউমার হাতে আক্রান্তও হওয়ার অভিযোগ ওঠে। যদিও বাড়ির সামনে থাকা চায়ের দোকানের মালিক ছোট ছেলে সুকান্ত স্ত্রী ও মায়ের ঝগড়া অশান্তির সামাল দিত। এমনই একদিন অশান্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতেই বউমার হাতে খুন হতে হয় ওই বৃদ্ধা লক্ষ্মী ঘোষকে। ঘটনার সময় বাড়িতে বড় ছেলে ও বউমা না থাকায় টের পাননি ঘটনার।

অন্যদিকে খুনের ঘটনাকে চাপা দিতে ও স্ত্রীকে বাঁচাতে সুকান্ত নতুন গল্প ফাঁদে। মা নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে বলে হঠাৎ করে নাটক শুরু করে দেয়। বড় ছেলে ও পরিবার বাড়ি ফিরে হন্যে হয়ে মা-কে খোঁজে। এই ঘটনার একদিন পর অর্থাৎ গত ২৭ শে জানুয়ারী সকালে ওই বৃদ্ধার কানকাটা রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় প্রতিবেশীদের বাড়ির গলি থেকে। শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন দেখা যায় মৃতার। এরপরেই ওই গুণধর ছোট ছেলে ও বউমা অভিযোগ তোলেন তার মায়ের কানের, গলার, হাতে থাকা সোনার গহনা লুটপাট করতেই দুষ্কৃতিরা তার মাকে খুন করেছে। অভিযোগের পরেই নাদনঘাট থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে। ঘটনার রহস্যভেদে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে। অন্যদিকে মৃতার ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পুলিশ জানতে পারে বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। এরপরেই পুলিশ ওই ঘটনার সঙ্গে ছেলে ও বউমার যোগসূত্র খুঁজে পায়। এরপর জেরা করতেই তারা খুনের ঘটনার কথা স্বীকার করে নেয় বলে পুলিশ জানায়। যদিও এদিন আদালতে তোলার অভিযুক্ত ছেলে খুনের ঘটনার কথা অস্বীকার করেন। যদিও তার বক্তব্যে অসংলগ্নতা ধরা পড়ে বলে পুলিশ জানায়।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement