তৃণমূল কাউন্সিলরের মারে অশীতিপর বৃদ্ধের মৃত্যু! জানামাত্রই পদক্ষেপ করল দল। সন্ধ্যায় মৃতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন বারাকপুরের সাংসদ তথা দমদম ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি পার্থ ভৌমিক। বারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দ্রবদন ঝাঁ জানিয়েছেন, "অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।"
মৃত তুলসী অধিকারী। নিজস্ব চিত্র
ঘটনার সূত্রপাত বৃদ্ধের বাড়ির ঠিক পাশে অবৈধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে। প্রতিবাদ করে সম্প্রতি উত্তর বারাকপুর পুরসভায় চিঠি দেন মণিরামপুরের বাসিন্দা তুলসী অধিকারী। স্থানীয় ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এনিয়ে কোনও পদক্ষেপ করেননি বলেই অভিযোগ। এরইমধ্যে রবিবার সকালে বাড়ি ফেরার পথে কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ বৃদ্ধের ছোট ছেলে হেমন্তকে ডেকে এনিয়ে দু-এক কথা শুনিয়ে দেন। তাকে সিপিএম বলে গালিগালাজ করা হয় বলেও অভিযোগ। বাড়ি ফিরে তিনি বৃদ্ধ বাবাকে গোটা ঘটনা জানালে প্রতিবাদ জানাতে ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে যান তুলসীবাবু। তখন শাসক দলের কাউন্সিলর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।
অভিযোগ, ছেলের সামনেই বৃদ্ধকে গালিগালাজ করে সে। ধাক্কা দেয়, লাথিও মারে। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে হেমন্তকেও চড়, থাপ্পড় খেতে হয় বলে অভিযোগ। এদিকে কাউন্সিলরের হাতে আক্রান্ত হয়ে বৃদ্ধ অচৈতন্য হয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বারাকপুর ক্যান্টনমেন্টের জগদীশচন্দ্র বোস জেনারেল হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপরই আটক করা হয় অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে।
অভিযোগ, ছেলের সামনেই বৃদ্ধকে গালিগালাজ করে সে। ধাক্কা দেয়, লাথিও মারে। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে হেমন্তকেও চড়, থাপ্পড় খেতে হয় বলে অভিযোগ। এদিকে কাউন্সিলরের হাতে আক্রান্ত হয়ে বৃদ্ধ অচৈতন্য হয়ে পড়েন।
যদিও যাঁর বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ সেই তৃণমূল কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য আটক হওয়ার আগেও বলেন, "ওই বৃদ্ধই প্রথমে আমাকে গালিগালাজ, মারধর করেন। আমি কিছুই করিনি। অসুস্থ জেনেও বাবাকে নিয়ে এসে চিৎকার-চেঁচামেচি, গালিগালাজ করিয়েছেন ওঁর ছোট ছেলে হেমন্ত। তাই তুলসী অধিকারীর মৃত্যুর জন্য একমাত্র দায়ী হেমন্ত। আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে যারা ছিল তারাই আমার ভূমিকা ভালো বলতে পারবে।"
