পাশের বাড়ির একটি অংশে অবৈধ নির্মাণ হচ্ছিল বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগের কথা ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে জানানো হলেও তিনি তাতে আমল দেননি! উলটে অভিযোগকারীকেই গালাগাল করেন বলে অভিযোগ। ছেলেকে কেন 'অপমান' করা হল সেই বিষয় কাউন্সিলরের কাছে জানতে যান ওই ব্যক্তির বৃদ্ধ বাবা। অভিযোগ, সেসময় তাঁকেও মারধর, গালিগালাজ করা হয়। ঘটনায় ওই বৃদ্ধ মারা গিয়েছেন! মৃতের নাম তুলসী অধিকারী। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার উত্তর বারাকপুর পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযুক্ত কাউন্সিলরের নাম রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
উত্তর বারাকপুরের মণিরামপুর এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ তুলসী অধিকারীর। তাঁর ছেলের নাম হেমন্ত অধিকারী। অভিযোগ, ওই পরিবারের বাড়ির পাশের বাড়ির একটি অংশে অবৈধ নির্মাণ হচ্ছে। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন বাবা-ছেলে। ওই নির্মাণকাজে বাধাও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ওই ঘটনার রেশ ছড়ায় আরও বড় আকারে। জানা গিয়েছে, এদিন সকালে রাস্তা দিয়ে ফিরছিলেন হেমন্ত অধিকারী। সেসময় এলাকার কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য পথেই ছিলেন। তিনি হেমন্তকে ডেকেছিলেন। ওই নির্মাণ অবৈধ নয় বলে দাবির পাশাপাশি হেমন্তকে গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ অস্বীকার করে গোটা ঘটনার দায় ওই বৃদ্ধ ও তাঁর ছেলের উপর চাপিয়েছেন কাউন্সিলর। রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের দাবি, বাবা-ছেলে তাঁকে এসে মারধর, গালিগালাজ করেছিলেন। বাবার মৃত্যুর জন্য ছেলে দায়ী।
ছেলে হেনস্থার শিকার হয়েছে কানে যেতেই বৃদ্ধ তুলসী অধিকারী প্রতিবাদে কাউন্সিলরের কাছে যান। কেন ছেলেকে গালিগালাজ করা হয়েছে সেই প্রশ্ন তুলে কাউন্সিলরের কলার চেপে ধরেন! তারপরই শুরু হয়ে যায় দু'পক্ষের বচসা। অভিযোগ, কাউন্সিলর বৃদ্ধকে ধাক্কা মারলে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। তিনি রাস্তা থেকে উঠলে ফের গালিগালাজ, মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। লাথি মারা হলে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি! দ্রুত ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে বারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট জগদীশচন্দ্র বোস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ ঘটনা খতিয়ে দেখছে। ঘটনায় জড়িয়েছে রাজনৈতিক রং। অভিযোগ অস্বীকার করে গোটা ঘটনার দায় ওই বৃদ্ধ ও তাঁর ছেলের উপর চাপিয়েছেন কাউন্সিলর। রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের দাবি, বাবা-ছেলে তাঁকে এসে মারধর, গালিগালাজ করেছিলেন। বাবার মৃত্যুর জন্য ছেলে দায়ী। বারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ, বিজেপি নেতা অর্জুন সিং ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তৃণমূল কাউন্সিলরের দিকে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তিনি।
