জীবন সত্যি ক্ষণস্থায়ী। মুহূর্তের মধ্যে কী ঘটে যায়, তার বিন্দুমাত্র আঁচ পাওয়া যায় না। তারই সাম্প্রতিকতম ঘটনা ঘটে গেল রাজস্থানের কোটায়। দিনশেষে সন্ধ্যায় মাকে সঙ্গে নিয়ে রেস্তরাঁয় গিয়েছিল কোচবিহারের ছাত্র। যাওয়ামাত্রই যেন ধেয়ে এল মৃত্যুদূত! রেস্তরাঁর ছাদ ভেঙে মৃত্যু হল ছেলের। গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি মা। এত বড় বিপর্যয়ের খবর পেয়ে দিশেহারা কোচবিহারের পরিবার। ছেলের মৃত্যুশোক সামলে মাকে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে তাঁরা কোটার উদ্দেশে যাচ্ছেন। বাড়ি খাঁ খাঁ। এত আকস্মিক একটা ঘটনায় প্রতিবেশীরাও শোকস্তব্ধ।
কোচবিহারের ১৪ নং ওয়ার্ডের পুরুষোত্তম পাড়ার বাসিন্দা অনরণ্য কর্মকার। উচ্চমাধ্যমিক পাশের পর রাজস্থানের কোটায় গিয়েছিল পড়াশোনা করতে। সঙ্গে ছিলেন মা সুদীপ্তা কর্মকার। বাবা অভিজিৎ কর্মকার চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর প্রায়ই কোটায় গিয়ে থাকতেন। দিন কয়েক আগেই তিনি ফিরেছেন কোচবিহারের বাড়িতে। শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ মাকে নিয়ে কোটার এক রেস্তরাঁয় গিয়েছিলেন অনরণ্য। তাঁরা যাওয়ামাত্রই রেস্তরাঁর ছাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। মা-ছেলের পাশাপাশি গুরুতর জখম হয় ১৫ বছরের আরেক কিশোর। তিনজনকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে অনরণ্য ও ১৫ বছরের কিশোরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সুদীপ্তাদেবীর পায়ে গুরুতর জখম রয়েছে। সম্ভবত তাঁর একটি পা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাদ যেতে পারে।
দুর্ঘটনায় ছেলেকে হারিয়ে বাড়ি এখন খাঁ খাঁ। রবিবার, কোচবিহারের পুরুষোত্তম পাড়ায়। ছবি: বিশ্বদীপ সাহা
কর্মকার পরিবারের এক প্রতিবেশী জানান, অনরণ্য উচ্চমাধ্যমিক পাশের পরই রাজস্থানের কোটায় পড়াশোনা বা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে চলে যায়। মা প্রায়ই তার সঙ্গে থাকতেন। বাবাও কোটায় যাতায়াত করতেন। ঘটে গেল দুর্ঘটনা। মা-ছেলে রেস্তরাঁয় যাওয়া মাত্র্র ছাদ ভেঙে একটা টুকরো তাঁদের ঘাড়ের উপর পড়ে। আসলে ওই রেস্তরাঁয় মেরামতির কাজ চলছিল। অসাবধানতাবশতই হয়ত ছাদের চাঙড় ভেঙে পড়েছে। সম্ভবত অনরণ্যের মা সুদীপ্তার একটি পা বাদ যেতে পারে। তিনি আরও জানান, বাড়ির বাকি সদস্যরা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কোটার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। একরাতের মধ্যে কী যে ঘটে গেল একটা পরিবারে, তা ভেবে শিউরে উঠছেন প্রতিবেশীরা।
