সারাদিনে হাজির মাত্র একজন ভোটার। রবিবার তাঁরই জন্য দিনভর খোলা রইল শুনানিকেন্দ্র। এসআইআরের কাজে সময়সীমা বাড়তেই ভোটার অধিকার রক্ষায় নির্বাচন কমিশনের এই ভূমিকা প্রাথমিকভাবে নজির বলে মনে হলেও দেখা গেল, যাঁর জন্য এই শুনানিকেন্দ্র খোলা হল রবিবার, তিনি এলাকার বিজেপি নেতা। ফলে বিজেপি-কমিশন আঁতাঁত সংক্রান্ত তৃণমূলের অভিযোগ যে নেহাৎ ভিত্তিহীন নয়, তারও ইঙ্গিত মিলল। যদিও নেতার দাবি, হাই কোর্টের নির্দেশে তাঁর জন্য খোলা হয়েছে শুনানিকেন্দ্র।
কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে রবিবার হালিশহরের একটি স্কুলে বিশেষ শুনানিকেন্দ্র খোলা হয়। সেখানে হাজির হন হালিশহর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তথা বিজেপি নেতা সুদীপ্ত দাস। শুধুমাত্র তাঁরই শুনানি হল হালিশহর রামপ্রসাদ বিদ্যাপীঠ স্কুলে। শুনানি শেষে হাসিমুখে বেরিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু তাঁর জন্যই শুধু কেন খোলা হল শুনানিকেন্দ্র? সুদীপ্ত দাস জানান, “আগে আমি কাঁচরাপাড়া পুরসভার ভোটার ছিলাম। পরে হালিশহরে বাড়ি করে বসবাস শুরু করি। কিন্তু ভোটার তালিকায় আমার নাম ছিল না। নতুন করে আবেদন করলেও আমাকে বীজপুর থানার কাঁচরাপাড়ায় হাজির হতে বলা হয়। অথচ হাই কোর্টের নির্দেশে বীজপুর থানা এলাকায় আমার প্রবেশ নিষিদ্ধ। বাধ্য হয়ে আমি আদালতের দ্বারস্থ হই। আদালত দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আমাকে শুনানিতে ডাকেন। আমি তখন বাইরে ছিলাম, তাই আজ শুনানির জন্য হাজির হয়েছি।”
সারাদিনে হাজির মাত্র একজন ভোটার। রবিবার তাঁরই জন্য দিনভর খোলা রইল শুনানিকেন্দ্র। এসআইআরের কাজে সময়সীমা বাড়তেই ভোটার অধিকার রক্ষায় নির্বাচন কমিশনের এই ভূমিকা প্রাথমিকভাবে নজির বলে মনে হলেও দেখা গেল, যাঁর জন্য এই শুনানিকেন্দ্র খোলা হল রবিবার, তিনি এলাকার বিজেপি নেতা। ফলে বিজেপি-কমিশন আঁতাঁত সংক্রান্ত তৃণমূলের অভিযোগ যে নেহাৎ ভিত্তিহীন নয়, তারও ইঙ্গিত মিলল।
রাজ্যে এসআইআর শুনানি শেষ হওয়ার কথা ছিল ৭ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু কয়েকটি জেলায় শুনানির কাজ এখনও বেশ খানিকটা বাকি। তাই জেলাশাসকদের আবেদন মেনে আরও সাতদিন সময়সীমা বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুনানির কাজ চলবে। তারপর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে আরও দিন সাতেক সময় লাগবে। তারই মাঝে রবিবার বিজেপি নেতা সুদীপ্ত দাসের জন্য খোলা রইল শুনানিকেন্দ্রটি। যদিও উচ্চ আদালতের নির্দেশে বিশেষভাবে এই শুনানির আয়োজন করা হয় বলে দাবি তাঁর। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষত বিজেপি-কমিশন আঁতাঁতের অভিযোগ আসছে ঘুরেফিরে।
