শাহাজাদ হোসেন, ফরাক্কা: এসআইআরে অসহ্য কাজের চাপ! স্কুলের মধ্যেই আত্মঘাতী আরও এক বিএলও। শনিবার গভীর রাতে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের রানিতলা থানার অন্তর্গত পাইকমারি চর এলাকায়। মৃত ওই ব্যক্তির নাম হামিমুল ইসলাম। পরিবারের দাবি, এসআইআরের অত্যাধিক কাজের চাপ। তা সহ্য করতে না পেরেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন বছর ৪৭ এর হামিমুল। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত নেমেছে পুলিশ। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে এই ঘটনায় ইতিমধ্যে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভগবানগোলার তৃণমূল বিধায়ক রিয়াত হোসেন সরকার। ঘটনায় একযোগে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে একহাত নিয়েছেন তিনি। বিধায়ক বলেন, ''বিজেপির চাপে জাতীয় নির্বাচন কমিশন তাড়াহুড়ো করে এসআইআরের কাজ শেষ করতে চাইছে। সেই কারণে প্রত্যেক বিএলওর উপর অত্যাধিক কাজের চাপ রয়েছে। সেই চাপ নেওয়ার ক্ষমতা সকলের নেই।" এমনকী হামিমুলের উপর এসআইআরের কাজের জন্য অত্যাধিক চাপ ছিল। আর সেই কারণেই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও জানান রিয়াত হোসেন সরকার।
স্থানীয় খড়িবোনা গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব আলাইপুর গ্রামের একটি বুথে বিএলও হিসেবে কর্তব্যরত ছিলেন হামিমুল ইসলাম। শিক্ষাকতা করতেন পাইকমারি চর কৃষ্ণপুর বয়েজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরিবারের দাবি, একদিকে শিক্ষকের পেশা অন্যদিকে বিএলও হিসাবে কঠিন দায়িত্ব সামলানো, ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছিল হামিমুলের কাছে। এক সদস্য জানান, অন্যান্য দিনের মতোই শনিবার সকালেও ক্লাস নিতে স্কুলে গিয়েছিলেন হামিমুল ইসলাম। অন্যান্যদিন ক্লাস শেষ করে বিকেল ৩-৪ টে নাগাদ বাড়ি ফিরে আসতেন। কিন্তু শনিবার সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়ি ফেরেননি হামিমুল। এরপরেই বিভিন্ন এলাকায় তাঁর খোঁজে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। গভীর রাতে পাইকমারি চর কৃষ্ণপুর বয়েজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় ওই বিএলওর ঝুলন্ত দেহ।
মৃত ওই বিএলওর দাদা ফরমান উল কালাম বলেন, ''শনিবার সময় পেরিয়ে গেলেও ভাই না বাড়ি ফেরায় বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ করতে শুরু করি। রাতে পরিবারের এক সদস্য স্থানীয় এক থানার সিভিক ভলান্টিয়ারকে নিয়ে পাইকমারি চর কৃষ্ণপুর বয়েজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। সেখানে অনেকক্ষণ ধরে খোঁজ চালানোর পর একটি ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেহ উদ্ধার হয়।'' ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকে একহাত নিয়েছেন মৃতের দাদা। তাঁর দাবি, ''কমিশন যেভাবে এসআইআরের কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য চাপ দিয়েছিল, তা সহ্য করতে পারেনি ভাই। সেই কারণেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে।" ঘটনার খবর পেয়েই পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ভগবানগোলার তৃণমূল বিধায়ক রিয়াত হোসেন সরকার।
তিনি বলেন, '' পরিবার এবং তাঁর কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, হামিমুলের উপর এসআইআরের কাজের অত্যাধিক চাপ ছিল। তাঁকে দিয়ে 'ম্যাপিং' এবং 'আনম্যাপিং'- এর কাজ করানো হচ্ছিল। তা তিনি নিতে পারেননি। সেই কারণে আত্মহত্যার মত চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।'' বিধায়কের কথায়, ''নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির জন্যই একের পর এক নিরীহ মানুষ এবং বিএলওদের অকালে প্রাণ যাচ্ছে। "
