পছন্দের পাত্রের সঙ্গেই বিয়ে ঠিক হয়েছে। সোমবারই বিয়ে। সেই উপলক্ষ্যে বিয়ের যাবতীয় ব্যবস্থাও সাড়া হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু রবিবারই ঘটে গেল ভয়ানক ঘটনা। উদ্ধার হল তরুণীর দেহ। নিজের ঘর থেকেই উদ্ধার হল তরুণীর ঝুলন্ত দেহ! চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুরে। মৃতার নাম শীলা বিশ্বাস। কী কারণে ঘটল ওই ঘটনা? পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তিপুর থানার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বছর ১৮ বয়সের শীলা। আগামী কাল, সোমবার তাঁর বিয়ে। জানা গিয়েছে, এলাকারই এক যুবকের সঙ্গে মেলামেশা ছিল। দুই বাড়ির তরফে বিষয়টিতে আপত্তিও তোলা হয়নি। দুই পরিবার চারহাত এক করার বিষয়ে সম্মতি দেয়। বিয়েও ঠিক হয়ে যায় তাঁদের। বিয়ের বিষয় নিয়ে উৎসাহী ছিলেন সীমা। কেনাকাটাও সব হয়ে গিয়েছিল। আগামী কাল তাঁদের বিয়ে।
ঠাকুমার সঙ্গে একই ঘরে থাকতেন সীমা। গতকাল রাতেও ঠাকুমার সঙ্গে ঘুমিয়েছিলেন ওই তরুণী। তাঁর ব্যবহারেও তেমন কোনও অস্বাভাবিকতা ছিল না বলে দাবি পরিবারের। এদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কিছু সময়ের জন্য বাইরে গিয়েছিলেন ঠাকুমা। সেসময় ঘরে একাই ছিলেন শীলা। ঠাকুমা ফিরে ঘরে ঢুকতেই আঁতকে ওঠেন। ঘরের মধ্যেই গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায় তরুণীকে। বৃদ্ধার আর্তনাদ, চিৎকারে বাড়ির অন্যান্যরা, প্রতিবেশীরা ছুটে যান। খবর দেওয়া হয় শান্তিপুর থানায়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও বিষয়? সেটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বাড়ির লোকজনদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হবু বর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা। শীলার বাবা ও দাদা জানিয়েছেন, "পরিবারে কোনও অশান্তি হয়নি। ওর নিজের ইচ্ছাতেই আমরা বিয়ে ঠিক করেছি। গতকাল রাতে যখন ঘুমোতে যাই তখনও খাওয়া-দাওয়া করে স্বাভাবিকভাবেই সে ঘুমোতে গিয়েছিল। কিন্তু কেন এমন ঘটনা? কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।"
বিয়ে উপলক্ষ্যে ওই বাড়িতে প্যান্ডেলও তৈরি হয়ে গিয়েছিল। শিলা তাঁর হবু বরকে সঙ্গে নিয়ে বিয়ের কেনাকাটা এবং বাজার করেছিলেন বলে খবর। তারপরও কেন এমন ঘটল? সেই প্রশ্ন উঠছে। ঘটনায় হতবাক প্রতিবেশীরাও।
