ক্যানিং-এ ভয়ঙ্কর পথ দুর্ঘটনা। গাছের উপর উঠে পড়লো অটো। অন্য দিকে রাস্তায় পড়ে রক্তাক্ত যুবক। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
এমন হাড়হিম করা দুর্ঘটনা ঘটেছে বুধবার রাতে। ক্যানিং থানার অন্তর্গত ক্যানিং-হেড়োভাঙ্গা রোডের শরৎপল্লি এলাকার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বাইক চালক আজহার আকুঞ্জি নামে এক যুবকের। তাঁর বয়স ৩২ বছর। পাশাপাশি, এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন পাপাই মন্ডল নামে এক যুবক।
ক্যানিং থানার পুলিশ মৃতদেহটি বৃহষ্পতিবার ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এছাড়াও অটো, বাইক এবং একটি পণ্যবাহী ট্রাক আটক করেছে পুলিশ। ট্রাকের চালক পলাতক। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের খবর, বুধবার রাতে একটি পণ্যবাহী ট্রাক শরৎপল্লি এলাকায় দাঁড়িয়েছিল। সেই সময় একটি বাইকে করে ক্যানিং থেকে রায়বাঘিনী এলাকায় যাচ্ছিলেন আজহার আকুঞ্জি নামে এক বাইক চালক। বাইকের পিছনে বসেছিলেন পাপাই।
সেই মুহূর্তে একটি অটো হেড়োভাঙ্গার দিকে যাচ্ছিল। আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের পিছনে ধাক্কা মারে বাইক। ট্রাকের পর অটোতেও সজোরে ধাক্কায় মারে বাইকটি। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বাইকের ধাক্কায় রাস্তার পাশে একটি গাছে উঠে যায় অটো। ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন বাইক চালক। স্থানীয়রা জখম যুবককে উদ্ধার করে। চিকিৎসার জন্য তাঁকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে বাইক চালককে মৃত বলে ঘোষনা করেন চিকিৎসকরা।
অন্যদিকে, এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজীর হয় ক্যানিং থানার আইসি অমিত কুমার হাতি-সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। আসেন ক্যানিং ট্রাফিক পুলিশও। দুর্ঘটনাগ্রস্থ অটোটি গাছ থেকে নামানো হয়। বাইক, অটো এবং ট্রাকটিকে আটক করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
জানা গিয়েছে মৃত যুবকের বাড়ি ক্যানিংয়ের মাতলা ২ পঞ্চায়েতের মিঠাখালি এলাকায়। এদিন রাতে রায়বাঘিনী এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছিলেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাস্তার পাশে যত্রতত্র ইট-বালি-পাথর রেখে ব্যবসা করছেন কিছু মানুষ। এমনকি রাস্তার উপরেও ছড়িয়ে রয়েছে ইমারতি মালপত্র। এই ঘটনার প্রতি প্রশাসন উদাসীন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, এর ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনা। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমেছে শোকের ছায়া।
