বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে এবার বিশ্বের অতিবিরল বন্যপ্রাণ মেঘচিতার (ক্লাউডেড লেপার্ড) হদিশ মিললো। বন দপ্তরের ট্র্যাপ ক্যামেরায় একটি পূর্ণ বয়স্ক মেঘ চিতার ছবি ক্যামেরা বন্দি হয়েছে। মাটিতে চলমান অবস্থায় মেঘচিতার ছবি ক্যামেরা বন্দি হওয়ায় উচ্ছ্বসিত বক্সা টাইগার রিজার্ভের আধিকারিকরা। শুধু তাই নয়, যে এলাকায় এই মেঘচিতার ছবি ক্যামেরা বন্দি হয়েছে সেখানে মেঘচিতার থাকার কথা নয় বলে জানাচ্ছেন বন দপ্তরের আধিকারিকরা। আর সেই কারণে অপ্রত্যাশিত এই ছবিতে উল্লসিত বনকর্তারা।
বক্সা টাইগার রিজার্ভের পূর্ব বিভাগের উপক্ষেত্র অধিকর্তা দেবাশিস শর্মা বলেন, ''অল ইন্ডিয়া টাইগার কাউন্টিংয়ের অঙ্গ হিসেবে বক্সাতে ট্র্যাপ ক্যামেরা লাগিয়ে ক্যামেরা ট্র্যাপিং চলছে। প্রথম দফাতেই এই ছবি ধরা পড়েছে। সাধারণত প্রথম দফায় এই ছবি আমরা আশা করিনি। তবে এই ছবি প্রমাণ করছে বক্সাতে ক্লাউডেড লেপার্ডের সংখ্যা বাড়ছে। বক্সা টাইগার রিজার্ভের বনাঞ্চলে জীব বৈচিত্র্য অত্যন্ত ভালো অবস্থায় রয়েছে। সেই কারণে অতিবিরল এই সব বুনো প্রাণীর হদিশ মেলে।''
উল্লেখ্য গত ১৫ জানুয়ারি বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এর পর একই বাঘের একাধিক ছবি ক্যামেরা বন্দি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রথমে ২০২১, তার পর ২০২৩ সালেও একাধিকবার রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি ক্যামেরা বন্দি হয়। দীর্ঘ দুই বছর পর ফের বক্সাতে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি ক্যামেরা বন্দি হওয়ায় এমনিতে বনকর্তারা উচ্ছ্বসিত রয়েছেন। এই অবস্থায় অতিবিরল মেঘ চিতার মাটিতে হেঁটে চলা অবস্থায় ছবি ক্যামেরা বন্দি হওয়ায় একেবারে উল্লসিত বলতে যা বোঝায় এখন বন কর্তাদের অবস্থা তেমনই।
জানা গিয়েছে বিড়াল প্রজাতির এই মেঘচিতা মূলত উঁচু গাছে চড়তে সিদ্ধহস্ত। মূলত নিশাচর এই প্রাণী বেশিরভাগ সময় গাছেই থাকতে পছন্দ করে। তবে মাংসাশী এই প্রাণী শিকার করতে মাটিতেও নামে। প্যাঙ্গোলিন, বড় ইঁদুর-সহ বিভিন্ন প্রাণীরা এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে।
পাহাড় ঘেঁষা বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে বার বার মেঘ চিতার হদিশ পেয়েছে বন দপ্তর। আর সেই কারণেই এই বনাঞ্চলে মেঘ চিতা সংরক্ষণে জোর দিয়ে ৫ বছরের প্রকল্প হাতে নিয়েছে বনদপ্তর। এবার এই বনাঞ্চলের সমতল এলাকাতেও মেঘ চিতার হদিশ মেলায় খুশি বনদপ্তর।
এই বিষয়ে আলিপুরদুয়ার নেচার ক্লাবের সম্পাদক ত্রিদিবেশ তালুকদার বলেন, ''মেঘচিতা সাধারণ একই জায়গায় থাকতে পছন্দ করে। বেশিরভাগ সময় গাছেই কাটায়। মাটিতে হাটা অবস্থায় এই ছবি সত্যি খুব বিরল। এই ছবি প্রমাণ করে বক্সা বুনোদের উন্নত বাসস্থানে পরিণত হয়েছে।''
