উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগে কুম্ভ, মহাকুম্ভের আয়োজন হয়। এই রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও মিনি কুম্ভের আয়োজন হয়। আজ, বুধবার থেকেই এই মিনি কুম্ভ শুরু হল। হুগলির ত্রিবেণী সঙ্গমে এই মেলা ঘিরে বহু মানুষের সমাগম হয়েছে। এবার আরও বেশি মানুষ এই কুম্ভমেলায় উপস্থিত হবে। তেমন মনে করছেন কর্মকর্তারা। এবারের এই মেলা পঞ্চম বছরে পড়ল।
দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে সাধু-সন্তরা হাজির হতে শুরু করেছেন ত্রিবেণী সঙ্গমে। সাধুদের জন্য তৈরি হয়েছে আখড়া। তাবুর মধ্যে থাকারও ব্যবস্থা হয়েছে। বহু মানুষের সমাগমের কথা ভেবে প্রশাসনিক নিরাপত্তার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। নিরাপত্তায় যাতে কোনও খামতি না থাকে, সেদিকে জোর দেওয়া হয়েছে। ১১ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই মিনি কুম্ভমেলা। মাঘ সংক্রান্তিতে হবে পূণ্যস্নান।
কোনওভাবে যাতে সমস্যা না হয়, সেজন্য বঙ্গীয় ত্রিবেণী কুম্ভ পরিচালন সমিতির সঙ্গে প্রশাসনের আধিকারিকরা কথাও বলেছেন। বঙ্গীয় ত্রিবেণী কুম্ভ পরিচালন সমিতির সভাপতি ভট্টাচার্য বলেন, "মাঘ মাসের সংক্রান্তির দিন হবে কুম্ভস্নান। যেটা আমরা বলি অমৃত যুগস্নান। ওই স্নান কেন্দ্র করেই উৎসব তার আগে দু'দিন ধরে চলে।" এদিন শিবপুর স্পোর্টিং ক্লাবের মাঠে গীতাযজ্ঞের আয়োজন হয়েছে। ১২ তারিখ হবে রুদ্রাভিষেক যজ্ঞ এবং মহাদেবের সহস্রনাম হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পে সাধুদের আখড়ায় ৫২টি পীঠের কল্পনা করে ধুনী জ্বালানো হবে। ১৩ তারিখ হবে স্নানপর্ব। তার আগে সাধুদের রাজসিক যাত্রা হবে বলেও খবর। ওই যাত্রার সমাপ্তি হবে সপ্তর্ষি ঘাটে। প্রথম একঘণ্টা সাধুদের স্নান হবে।তারপর যারা পূণ্যার্থী, অন্যান্যরা স্নান করবেন বলে খবর।
গঙ্গার ঘাট ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন পুলিশ আধিকারিকরা। নিজস্ব চিত্র
মঙ্গলবার বিকেলের দিকে কুম্ভপ্রাঙ্গন, গঙ্গার ঘাট পরিদর্শন করেন সরকারি আধিকারিকরা। দমকল, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর, পূর্ত দপ্তর, বাঁশবেড়িয়া পুরসভা এবং পুলিশ আধিকারিকরাও ছিলেন। কুম্ভ মেলার উদ্যোক্তাদেরও সঙ্গে দেখা যায়। স্বামী শিবানন্দ মহারাজ বলেন, "আজ থেকে সাধুরা আসতে শুরু করেছে। আগামী কাল থেকে শুরু হবে কার্যক্রম। ১১-১৩ তারিখ, তিনদিন ধরে হবে কুম্ভ। ১৩ তারিখ হবে পূণ্যস্নান। ওই দিন রয়েছে ভান্ডারা। সাধুরা গোটা ত্রিবেণী নগর পরিক্রমা করবেন। তারপর হবে পূণ্যস্নান, এরপর হবে ভান্ডারা। বাংলায় ১৬টি শক্তিপীঠ রয়েছে। সেখানকার মাটি এবং জল আসবে। প্রয়াগ থেকে আনা হয়েছে জল। এই জল মাটি দিয়েই হবে যজ্ঞ।"
ইতিমধ্যেই কুম্ভ মেলার স্থান পরিদর্শন করেছেন হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন। তিনি বলেন, "কুম্ভমেলাকে কেন্দ্র করে প্রচুর মানুষের সমাগম হবে। তাই ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন থাকবে। একশোর বেশি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ওই এলাকায় নোএন্ট্রিও করা হয়েছে।"
