খেলার মাঠের সামান্য বিবাদ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল সোনামুখীর এক স্কুল চত্বরে। অভিযোগ, তিন স্কুল পড়ুয়াকে বন্দুক দেখিয়ে ভয় দেখায় তাদেরই দুই সহপাঠী। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে অভিভাবক মহলে।
এক অভিভাবক সংবাদমাধ্যমের সামনে জানিয়েছেন, স্কুলে যাওয়ার পথে তাঁর ছেলে ও আরও কয়েকজনকে ভয় দেখানো হয়। তাঁর দাবি, “লাঠি ও পিস্তল দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে। ওরা সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত বাড়ি ফিরে আসে।” পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি বলে অভিযোগ। তিনি আরও বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। কাজের সূত্রে বাইরে থাকতে হয়। এই অবস্থায় ছেলেদের কীভাবে স্কুলে পাঠাব, তা ভেবেই আতঙ্কে আছি।”
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিষয়টি থানায় জানানো হলেও প্রথমে গুরুত্ব দিতে চায়নি পুলিশ। তাঁদের দাবি, ঘটনাটি ‘পড়ুয়াদের ঠাট্টা’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। যদিও পরে সংশ্লিষ্টদের থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়। অন্যদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ঘটনাটি স্কুলের বাইরে ঘটায় সরাসরি দায় এড়িয়েছেন তাঁরা। এক শিক্ষক বলেন, “স্কুলের ভিতরে কিছু হলে আমাদের দায়িত্ব, বাইরে হলে নয়।” তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফোনে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ব্যাগ তল্লাশি করে একটি বন্দুকের মতো বস্তু পাই এবং তা পুলিশের হাতে তুলে দিই। সেটি পুজোয় ব্যবহৃত ক্যাপ বন্দুক নয় বলেই প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে।”
এ বিষয়ে বিষ্ণুপুরের এসডিপিও মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “একজন নাবালক একটি বন্দুকসদৃশ বস্তু নিয়ে এসেছিল। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তা প্রাণঘাতী নয়। বস্তুটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবকরা। তাঁদের একটাই দাবি—নিরাপদ পরিবেশে সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে প্রশাসনকেই।
