অরূপ বসাক, মালবাজার: সঙ্গিনী দখলে গভীর জঙ্গলে দুই পুরুষ হাতির তুমুল লড়াই! দাঁতালের আঘাতে মৃত্যু পূর্ণবয়স্ক একটি মাকনা হাতির। ডায়না বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকা থেকে ওই হাতিটির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে বন দপ্তর। যা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান বন দপ্তরের আধিকারিকরা। বন দপ্তরের প্রাথমিক ধারণা, সঙ্গিনী দখলে দুটি হাতির মধ্যে লড়াইয়ের জেরেই ওই মাকনা হাতিটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। যদিও এই বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে হাতিটির ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বন আধিকারিকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ নাগরাকাটার সেন্ট্রাল ডায়না ব্লকের জঙ্গল সংলগ্ন এলাকা থেকে মৃত হাতিটির দেহ উদ্ধার করেন বনকর্মীরা। জঙ্গলের পাশে একটি জলাশয় থেকে পূর্ণবয়স্ক হাতিটির দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় মানুষজন। এরপরেই খবর দেওয়া হয় বন দপ্তরকে। আধিকারিকরা এসে দেহটিকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, শুক্রবার গভীর রাতে এলাকায় দুই হাতির তীব্র লড়াইয়ের শব্দ ও চিৎকার শোনা যায়। যা একেবারে শিউরি ওঠার মতো বলেও দাবি স্থানীয় মানুষজন।
বন আধিকারিকরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া হাতিটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। মনে করা হচ্ছে, দাঁতালের আক্রমণেই হাতিটির শরীরে ওই ক্ষত তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে রাতেই বন দপ্তরের তরফে হাতিটির ময়নাতদন্ত করা হয়। ডায়না বন দপ্তরের রেঞ্জার অশেষ পাল জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই হাতিটির মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যাবে। এদিকে মৃত হাতিটিকে দেখতে এলাকায় ভিড় জমে যায়। অন্যদিকে চা বাগানে চিতাবাঘের আক্রমণে আহত হলেন এক মহিলা। আহত মহিলার নাম মুকলুবা মাহালি (৫৫)। নাগরাকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের খয়েরবাড়ি এলাকার যোমুনাবাড়িতে শনিবার এই ঘটনাটি ঘটে।
মৃত হাতিটিকে ঘিরে স্থানীয়দের ভিড়। নিজস্ব ছবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুকলুবা মাহালি চা বাগানে চায়ের ফুল তুলতে গিয়েছিলেন। সেই সময় হঠাৎ একটি চিতাবাঘ তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাঁর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এলে চিতাবাঘটি চা বাগানের ঝোপে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত আহত মহিলাকে উদ্ধার করে নাগরাকাটার শুলকাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
