বহিষ্কৃত আইএএস পূজা খেদকারের বাড়িতে চুরি! অভিযোগ, বাড়ির সকলকে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুট করে পালায় পরিচারিকা। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি নেপালের এক পরিচারিকাকে পূজা তাঁর বাড়িতে নিযুক্ত করেন। অভিযোগ, শনিবার রাতে খাবারের সঙ্গে তিনি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিলেন। সেই খাবার খেয়েই পূজা এবং তাঁর মা-বাবা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তারপর ওই পরিচারিকা তাঁদের হাত-মুখ বেঁধে দেন। এরপরই চলে লুট। অভিযোগ, দামি মোবাইল ফোন এবং প্রচুর মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে চম্পট দেন পরিচারিকা। শনিবার গভীর রাতে পুলিশকে ফোন করে গোটা ঘটনাটি জানান পূজা। পূজার দাবি, নিজেকে মুক্ত করতে সক্ষম হওয়ার পর অন্য একটি ফোন ব্যবহার করে তিনি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, "পূজা এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। ঠিক কী কী জিনিস চুরি হয়েছে, তা এখনও বিস্তারিত জানতে পারিনি। তবে ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।"
২০২২ সালের ব্যাচের শিক্ষানবিশ আমলা পূজা মহারাষ্ট্রের পুণেতে অ্যাসিসট্যান্ট কালেক্টর হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে ইউপিএসসি পরীক্ষায় পাশ করতেও বহু নিয়ম বহির্ভূত কাজ করেছেন তিনি। নির্ধারিত সীমার বেশিবার পরীক্ষা দিতে নাম, পরিচয় ও বয়স ভাঁড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল পূজার বিরুদ্ধে। নিয়ম অনুযায়ী ইউপিএসসিতে জেনারেল ক্যাটাগরির প্রার্থী ৩২ বছর বয়সের মধ্যে ৬ বার পরীক্ষা দিতে পারেন। আবার ওবিসি প্রার্থীরা ৩৫ বছরের মধ্যে ৯ বার পরীক্ষায় বসতে পারেন। সূত্রের দাবি, পূজা মোট ১১ বার ইউপিএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, নিজেকে প্রতিবন্ধী কোটার সুবিধা নিয়ে ভুয়ো সার্টিফিকেট দাখিল করেছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে। একের পর এক অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্তের পর তাঁকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করে ইউপিএসসি কমিটি। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে দিল্লি পুলিশ। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে এসেছেন পূজা। গ্রেপ্তারি থেকে বাঁচতে দিল্লি হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানান। বারে বারে গ্রেপ্তারিতে রক্ষাকবচ পেয়ে যাওয়ায় আটক হননি তিনি। অবশেষে গত বছরের মে মাসে তাঁকে আগাম জামিন দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
