বক্সাতে (Buxa) খুব শিগগির বাঘ আনা হবে। সব ঠিকঠাক থাকলে ২৯ জুলাই বক্সাতে বাঘ ছাড়া হতে পারে। রবিবার বক্সা টাইগার রিজার্ভের সিকিয়াঝোরা পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ। এই পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শন করার পর বনমন্ত্রী ২৯ জুলাই বক্সাতে বাঘ এনে ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। বাঘ এনে ছাড়ার দিন কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও বনমন্ত্রী বক্সাতে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিন মনোজকুমার ওরাওঁ বলেন, "বক্সা টাইগার রিজার্ভ বাঘেরই জায়গা। এখানে বাঘ আমরা আনবই। সব ঠিক থাকলে ২৯ জুলাই বক্সাতে বাঘ এনে ছাড়া হবে। ওই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় বন মন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্যরাও উপস্থিত থাকবেন।" এদিন বাঘ আনার কথা ঘোষণা করতেই সাংবাদিকরা জয়ন্তী বনবস্তিকে স্থানান্তরের প্রসঙ্গ তোলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ বলেন, "জয়ন্তীকে প্রয়োজনে স্থানান্তর হবে। সব কিছুই মানুষের মতামত নিয়ে করা হবে। খুব কম সময়ে আপনারা সব কিছু জানতে পারবেন।"
উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা বাঘবন দেশের ১৫ তম বাঘ সংরক্ষিত এলাকার মর্যাদা পায়। সেসময় এই বনাঞ্চলে ২০টির বেশি বাঘ থাকার রেকর্ড ছিল। পাহাড়, সমতল মিলিয়ে মোট ৭৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে বক্সা বাঘ বন। কিন্তু ধীরে ধীরে এই বনাঞ্চল বাঘ শূন্য হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে এই বনাঞ্চলে একটিও বাঘ নেই। তবে শেষ দু'বছর ভুটান থেকে এই বনাঞ্চলে বাঘেদের আনাগোনা ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এই অবস্থায় এখানে বাঘেদের স্থায়ী বসবাস গড়ে বাঘ থাকার পুরনো গৌরব ফেরাতে চাইছে বনদপ্তর। রাজ্যে পালাবদলের পর বাইরের রাজ্য থেকে বাঘ আনার পরিকল্পনাকে অনুমোদন দিয়েছে। আর মাস খানেক বাদেই বক্সাতে সেই প্রকল্পের বাস্তবায়নের সম্ভাবনার কথা জানান বনমন্ত্রী।
বনমন্ত্রীর এই ঘোষণাতে বক্সা টাইগার রিজার্ভের বনাঞ্চল লাগোয়া এলাকায় খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে। বাঘকে ঘিরে এখানে টাইগার ট্যুরিজম গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। এদিন সিকিয়াঝোরা পর্যটন কেন্দ্রে বনমন্ত্রীর সঙ্গে বক্সা টাইগার রিজার্ভের ক্ষেত্র অধিকর্তা কুমার বিমল সহ অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। যদিও বক্সা টাইগার রিজার্ভের ক্ষেত্র অধিকর্তা কুমার বিমল এদিন কোনও বিষয়েই কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
