হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের বাণীকে পাঠক্রমে বেশি করে রাখার বার্তা রাজ্যপাল আর এন রবির। এদিন সস্ত্রীক রাজ্যপাল উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটের ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে গিয়েছিলেন। তবে এদিনের রাজ্যপালের ঠাকুরবাড়ি আসা নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। রাজ্যপালের আসার কথা তিনি জানতেন না। শুধু তাই নয়, বড়মার ঘরে শ্রদ্ধা না জানিয়ে রাজ্যপাল বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে কথা বলতে চলে গিয়েছেন। এমন অভিযোগ উঠেছে।
রাজ্যে বিধানসভা ভোটের প্রচার শুরু হয়েছে। এদিকে এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকায় প্রচুর সংখ্যায় মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন বাদ পড়েছেন। সেই নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে মতুয়া সমাজের বড় অংশের মধ্যে। এই আবহে আজ, শুক্রবার দুপুরে মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে সস্ত্রীক পৌঁছন রাজ্যের নবনিযুক্ত রাজ্যপাল আরএন রবি। তিনি ঠাকুরবাড়িতে পুজো দেন। এরপর নাটমন্দিরেও গিয়েছিলেন তিনি।
মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে পুজো দিচ্ছেন সস্ত্রীক রাজ্যপাল। নিজস্ব চিত্র
ঠাকুরবাড়িতে এইসময় মতুয়া মহা ধর্মমেলা চলছে। ভক্তরা মন্দিরে পুজো দিতেও উপস্থিত হচ্ছেন। জানা গিয়েছে, রাজ্যপালকে ঠাকুরবাড়িতে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন শান্তনু ঠাকুর। সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেই এদিন ঠাকুরবাড়িতে যান রাজ্যপাল। প্রসঙ্গত, দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রথম কলকাতার বাইরে সফরে রাজ্যপাল। এদিন আরএন রবি মতুয়া ভক্তদের উৎসব উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা জানান। বিকশিত ভারতের মতুয়া সমাজের যোগদানের কথাও তুলে ধরেন। বিকশিত ভারত তৈরিতে হরিচাঁদ ঠাকুরের চিন্তাভাবনা অনেক কার্যকরী বলে জানিয়েছেন রাজ্যপাল। শুধু তাই নয়, হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের বাণীকে পাঠক্রমে বেশি করে রাখার কথাও বলেন তিনি। রাজ্যপাল ঠাকুরবাড়িতে যাওয়ায় মতুয়া ভক্তদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা গিয়েছে।
এদিন শান্তনু ঠাকুর রাজ্যপালকে স্বাগত জানান। পরে বিজেপি সাংসদ বলেন, "রাজ্যপালকে মতুয়া মহা ধর্মমেলায় চিঠি দিয়ে আসবার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তিনি এসেছেন, আমরা মতুয়ারা কৃতজ্ঞ।" যদিও রাজ্যপালের ঠাকুরবাড়ি যাওয়ার বিষয় নিয়ে তির্যক মন্তব্য করেন তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। তিনি বলেন, "রাজ্যপাল আসলেও আমাকে কিছু বলাই হয়নি। মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি। ঠাকুরবাড়িতে কেউ এলেই তাঁকে স্বাগত জানাই, রাজ্যপালকেও জানাচ্ছি৷" তাঁর কটাক্ষ, "উনি বড়মার ঘরে গেলেন না! গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পুজোও দিলেন না। উনি জানেন না, হরিচাঁদ ঠাকুরের বাণী ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাঠ্যপুস্তকে তুলে দিয়েছেন। তাঁর জন্মদিনে ছুটি ঘোষণা করেছেন। এখন রাজনীতি করার জন্য উনি এসেছেন।
