একেই বোধহয় বলে, 'গাছে না উঠতেই এক কাঁদি'! আসন্ন নির্বাচনের (Bengal Election 2026) জন্য বৃহস্পতিবার বিজেপি দ্বিতীয় দফায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। আর শুক্রবার সকালে প্রচারে নেমেই বিতর্কে জড়ালেন বর্ধমান দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জনসংযোগের মাঝে কৌশলে টাকা বিলি করছেন তিনি! কিন্তু তা খুব একটা গোপনও নেই। যদিও ভাইরাল ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি 'সংবাদ প্রতিদিন'। বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানাতে চলেছে তৃণমূল। তবে টাকা দেওয়ার কথা স্বীকারও করে নিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।
শুক্রবার সকালেই বর্ধমানের বিখ্যাত সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচারে বেরন বর্ধমান দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। রূপম সিংহ নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে তিনি কথা বলেন। এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এলাকারই 'ক্ষ্যাপাদা' নামে একজনকে সঙ্গে নিয়ে কনটেন্ট বানিয়ে ভাইরাল হয়েছেন। এদিন রূপমের সঙ্গে 'ক্ষ্যাপাদা'ও ছিলেন। সেখানে বিজেপি প্রার্থীর জনসংযোগের ভিডিওটি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন রূপম। সেই ভিডিও ঘিরেই শোরগোল।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, প্রার্থীর 'ক্ষ্যাপাদা'র পিছন দিক থেকে গেরুয়া পাঞ্জাবি পরিহিত কেউ একজন একশো টাকার নোট গুঁজে দিলেন বিজেপি প্রার্থীর হাতে। তারপর সেই নোট বিজেপি প্রার্থী 'ক্ষ্যাপাদা'র হাতে গুঁজে দিলেন। সেই ভিডিও ভাইরাল হতে সময় লাগেনি। ভিডিওতে শোনা গিয়েছে, রূপমের এক প্রশ্নে বিজেপি প্রার্থী বলেন, "এখানে আগে বাচ্চারা খেলত। সেই বাচ্চাদের খেলার জায়গা নেই। তাঁরা অন্য জায়গায় বসে অন্য কিছু খেলছে। সেটাকে বন্ধ করব।"
তারই রেশ ধরে ওই পোস্টের কমেন্টে রতন চৌধুরী নামে একজন লিখেছেন, "এই তো ক্ষ্যাপাদাকে মদ খাওয়ার জন্য টাকা দিলেন। আবার বলছেন, অন্য কিছু খেলে সেটা বন্ধ করবেন। হাস্যকর বিষয়।" অংশু অধিকারী নামে আর একজন কমেন্টে লিখেছেন, "সুন্দর। প্রকাশ্যে তো টাকা দিলেন ক্ষ্যাপাদাকে। এটা কী নির্বাচনী বিধিভঙ্গের মধ্যে পড়ে না? একটা লোককে প্রকাশ্যে টাকা দিচ্ছেন মদ খেতে। ক্যামেরায় সব দেখা গিয়েছে।" রুলামিন মিঞা নামে একজনের মন্তব্য, "এরা তো ক্ষ্যাপাদাকে কিনে নিল তো। চুপ করে টাকা দিয়ে দিল ক্ষ্যাপাদাকে মদ খাওয়ার জন্য!"
বিজেপি প্রার্থীর ভাইরাল ভিডিওয় কমেন্টের বন্যা।
ভোটের বাজারে টাকা বিলি নিয়ে সরগরম রাজনৈতিক মহল। এনিয়ে তৃণমূলের পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, "প্রচারে বেরিয়ে কারও হাতে টাকা দেওয়া নির্বাচন বিধিভঙ্গ করা হয়। বিজেপি সব কিছুই টাকার বিনিময়ে অর্জন করার চেষ্টা করে। নির্বাচন বিধি লাগু হওয়ার পর বিজেপি প্রার্থীর এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে কমিশনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তৃণমূলের তরফে এই বিষয়ে অভিযোগ জানানো হবে।" বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র টাকার দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও বিধিভঙ্গ হয়েছে - তা মানতে নারাজ। তাঁর কথায়, "সর্বমঙ্গলা মন্দিরে দলের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পুজো দিতে গিয়েছিলাম। সেখানে ক্ষ্যাপাদা নিজে এসে কথা বলে। তিনি সর্বমঙ্গলা মায়ের কাছে সকলের কল্যাণ কামনায় পুজো দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তাঁকে পুজোর খরচ বাবদ সাহায্যের কারণেই কিছু অর্থ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল সব বিষয়েই খুঁত দেখতে পায়। নিজেদের মানসিকতার কারণেই তাঁরা এই ধরনের মন্তব্য করেছেন। সকলকে নিয়ে ভাবার অভ্যাস তাদের নেই।" বিজেপি প্রার্থীর এসব সাফাই উড়িয়ে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানাতে চলেছে তৃণমূল।
