সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দলীয় শৃঙ্খলারক্ষায় কড়া পদক্ষেপ তৃণমূলের। শোকজ করা হল মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে। শনিবার সকালেই দলের তরফে শোকজের চিঠি গিয়ে পৌঁছেছে তাঁর বাড়িতে।

পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকেই বেসুরো শোনাচ্ছিল হুমায়ুনকে (Humayun Kabir)। ভোটের পর আবার আরও খোলাখুলি দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে দিয়েছেন তিনি। দলের জেলা নেতৃত্বকে নিয়মিত তোপ দেগে আসছিলেন ভোটের আগে থেকেই, ভোটের পর সুর আরও চড়িয়ে প্রয়োজনে নির্দলদের সমর্থনে বোর্ড গঠনের হুঁশিয়ারি দেন। এমনকী পঞ্চায়েত হিংসা নিয়েও দলকে অস্বস্তিতে ফেলে একের পর এক বেফাঁস মন্তব্য করে গিয়েছেন তিনি।
[আরও পড়ুন: একমঞ্চে পওয়ার-মোদি! খাড়গের দ্বারস্থ উদ্বিগ্ন INDIA জোট]
ভোট এবং একুশে জুলাই মিটতেই ভরতপুরের বিধায়ককে শোকজ করা হল। অবশ্য দল যে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে সে ইঙ্গিত আগেই ছিল। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) তাঁর কাজকর্মে ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা গিয়েছিল,”মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগরে আমাদের দলের একজন আছেন, যিনি মাঝেমধ্যেই হুঙ্কার দেন। গুন্ডামি করেন। আমাদের দলে থাকলেও কিন্তু তাঁর কাজকর্মকে সমর্থন করি না।”
[আরও পড়ুন: ‘এবার রাহুলের বিয়েটা দিন’, কৃষক মহিলার আরজিতে কী বললেন সোনিয়া?]
মমতার সেই ক্ষোভপ্রকাশের পরই দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে যায়। শনিবার সকালে হুমায়ুনের বাড়িয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস গিয়ে পৌঁছেছে। সাত দিনের মধ্যে সেই চিঠির জবাব দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। যদিও চিঠি পাওয়ার পরও সুর খুব একটা নরম করেননি ভরতপুরের বিধায়ক। তিনি বলছেন,”দল আমার কাছে যা জানতে চেয়েছে, যথাসময়ে তা জানাব।” সেই সঙ্গে তাঁর হুঙ্কার,”৪৩ বছর রাজনীতি করছি। যতদিন শরীর-স্বাস্থ্য ঠিক থাকবে, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকব। তৃণমূল করার অধিকার যদি কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে আগামী দিন নতুন দল করব। ২০২৬ নির্বাচনের আগে। আর সেটা গোটা রাজ্যের দল হবে। ” অর্থাৎ হুমায়ুন কবীর বুঝিয়ে দিয়েছেন, দল কড়া পদক্ষেপ করলেও রাজনীতির ময়দান তিনি ছাড়বেন না।