শিল্প, সাহিত্য এবং শিক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান পেলেন কালনার তাঁতশিল্পী জ্যোতিষ দেবনাথ ও সাহিত্যিক রবিলাল টুডু। সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে ভারত সরকারের এই পুরস্কার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উচ্ছ্বসিত কালনার বাসিন্দারা। মসলিন ও জামদানি শাড়ির উপর সুনিপুণ কাজ, নিখুঁত নক্সা-সহ তাঁতশিল্পের উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য এর আগে জাতীয় পুরস্কার সহ ‘সন্ত কবীর অ্যাওয়ার্ড’ পান কালনা শহরের ৭ নং ওয়ার্ডের বারুইপাড়ার বাসিন্দা জ্যোতিষ দেবনাথ। কালনার প্রান্তিক এলাকায় থাকা মহিলা তাঁতশিল্পীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের আর্থিক স্বনির্ভরতার পথ দেখানোয় প্রশংসিত হন তিনি। অন্যদিকে,
সোনিয়া গান্ধী থেকে নীতা আম্বানি, বিদ্যা বালন থেকে কাজল, জয়া বচ্চনের মত মুম্বইয়ের অনেক সেলিব্রিটি তাঁর শাড়ি কেনেন। প্রদর্শনীর জন্য তাঁর শাড়ি পাড়ি দেয় লন্ডন, স্কটল্যান্ড, ইটালি, সিঙ্গাপুর, জাপান-সহ বিভিন্ন দেশে। 'পদ্মশ্রী'প্রাপ্তি নিয়ে ৬৮ বছর বয়সী জ্যোতিষ দেবনাথের প্রতিক্রিয়া, “বংশ পরম্পরায় আমরা তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। আমার ছেলেও এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। কোনও কাজই ছোট নয়। সামান্য কাজ থেকেও আমরা বড় কিছু আশা করতে পারি। এই সম্মান পেয়ে খুব ভালো লাগছে।”
মসলিন ও জামদানি শাড়ির উপর সুনিপুণ কাজ, নিখুঁত নক্সা-সহ তাঁতশিল্পের উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য এর আগে জাতীয় পুরস্কার সহ ‘সন্ত কবীর অ্যাওয়ার্ড’ পান কালনা শহরের ৭ নং ওয়ার্ডের বারুইপাড়ার বাসিন্দা জ্যোতিষ দেবনাথ।
'পদ্মশ্রী'প্রাপ্ত কালনার শিল্পী জ্যোতিষ দেবনাথ। নিজস্ব ছবি
অন্যদিকে, কালনা ২ ব্লকের নোয়ারা গ্রামের বাসিন্দা তথা সাহিত্যিক রবিলাল টুডু ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন। ছাত্রজীবন থেকে সাঁওতালি ভাষার চর্চা সহ সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করে চলেছেন তিনি। কর্মময় ব্যক্তিজীবনে নিত্যনতুন ভাবনার প্রতিফলন দেখা যায় এই সাহিত্যিকের লেখনীতে। বাদলা হাইস্কুল থেকে পড়াশোনার পর কালনা কলেজ থেকে তিনি স্নাতক হন। কেন্দ্রীয় সরকারের অডিটর জেনারেল হিসাবে এই রাজ্যে কর্মজীবন শুরু হয় তাঁর। যদিও পাঁচ বছর পর তিনি সেই চাকরি থেকে অবসর নেন। পরে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে যোগ দেন। বিভিন্ন সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত হন রবিলাল টুডু।
ছাত্রজীবন থেকে সাঁওতালি ভাষার চর্চা-সহ সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ, নিত্যনতুন ভাবনার প্রতিফলনে সাহিত্যিক রবিলাল টুডুও সম্মানিত হলেন 'পদ্মশ্রী'তে।
'পদ্মশ্রী'তে ভূষিত কালনার সাহিত্যিক রবিলাল টুডু। নিজস্ব ছবি
১৯৭৪ সালে বীরসা মুন্ডার জীবনী নিয়ে ‘বীর বীরসা’ নামে একটি নাটকের বই লেখেন তিনি। ২০১৪ সালে রাজ্য সরকার ‘সারদাপ্রসাদ কিস্কু অ্যাওয়ার্ড,’ ২০১৫ সালে ‘সাহিত্য আকাদেমি’ পুরস্কার ও ২০২২ সালে ‘বঙ্গভূষণ’ পুরস্কার আসে রবিলাল টুডুর ঘরে। জীবনের শেষ ইচ্ছা পূরণে তাঁর গ্রামের বাড়ির সামনের জায়গায় সিধু-কানহু, পণ্ডিত রঘুনাথ মূর্মূর মূর্তি স্থাপন করেন। ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে সম্মানিত হয়ে ৭৭ বছর বয়সী রবিলাল টুডুর প্রতিক্রিয়া, “শেষ জীবনে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে এই পুরস্কার পাব আমি আশা করিনি। খুবই ভালো লাগছে। এই ধরনের সম্মান পাওয়া খুবই গর্বের ও আনন্দের।”
