দেশের সাধারণতন্ত্র দিবসে কাল সোমবার দিল্লির কর্তব্যপথে প্যারেড করবে বাংলার ৭ পড়ুয়া। ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম বা জাতীয় সেবা প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে রাজ্যের এই সাত ছাত্র-ছাত্রী বাংলার প্রতিনিধিত্ব করবে। সেই নিয়ে গর্বিত এই পড়ুয়াদের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। টানা ২৫ দিন ধরে মহড়া নিয়ে জাতীয় সেবা প্রকল্পের দেশ জুড়ে যে ১৪৮ জন ছাত্র-ছাত্রী ওই প্যারেডে অংশ নেবেন তার মধ্যে রয়েছেন বাংলার এই ৭ পড়ুয়া।
দিল্লির কর্তব্যপথে প্যারেড করবে বাংলার ৭ পড়ুয়া।
ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতের ব্রেনওয়ার ইউনিভার্সিটির সূর্যকান্ত মাইতি, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনন্দচন্দ্র কলেজ অফ কমার্সের সঙ্গম রায়, মালদহের গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌড় কলেজের ইয়ারানা শেখ, পুরুলিয়ার সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভদীপ মাহাতো। কুচকাওয়াজে থাকবেন তিন ছাত্রী মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির আওতায় থাকা নিউটাউনের ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্স এডুকেশন এন্ড রিসার্চ-র সমাদৃতা মুখোপাধ্যায়, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মালদহ কলেজের ঐশ্বর্য সরকার ও আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিবেনী দেবী ভালোটিয়া কলেজের মহিমা বাউরি। এই ছাত্র-ছাত্রীরা প্যারেডের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি ভবনে ও পিএম র্যালিতে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও তুলে ধরবেন। এই কর্মসূচিতে বাংলার এই পড়ুয়াদের দায়িত্বে থাকা কন্টিজেন্ট লিডার, এনএসএস প্রোগ্রাম অফিসার তথা পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক শুভেন্দু প্রামানিক বলেন, "১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দিল্লিতে রিপাবলিক ডে প্যারেড ক্যাম্পে টানা অনুশীলন, মহড়া করে গিয়েছে এই পড়ুয়ারা। আশা করছি আমাদের এই ৭ ছাত্র-ছাত্রী সেরাটা তুলে ধরতে পারবে।"
সূর্যকান্ত ব্যাচেলার অফ কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনের চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্র। তার আদি বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের শ্যামসুন্দরপুরে। সঙ্গম অ্যাকাউন্টেন্সি অনার্স নিয়ে ফিফথ সেমিস্টারের ছাত্র। তার বাড়ি জলপাইগুড়ি শহরের মার্চেন্ট রোডে। ইয়ারানা থাকেন মালদহের মোথাবাড়ি থানার জতমনসা গ্রামে। শুভদীপের বাড়ি পুরুলিয়া শহরের আমডিহাতে। মেয়েদের বিভাগে থাকা মহিমার বাড়ি পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালের মদনপুর, কুলডাঙ্গায়। ঐশ্বর্যর বাড়ি মালদার গাজলের শিক্ষক পল্লীতে। সমাদৃতা থাকেন কলকাতার চেতলায়। সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিদ্যার অধ্যাপক তথা এনএসএস প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ড সঞ্জয় মন্ডল বলেন,"বাংলার প্রান্তিক ছেলেমেয়েরা দিল্লির প্যারেডে অংশ নিচ্ছেন। সাংস্কৃতিক কার্যক্রম তুলে ধরবেন। এটা আমাদের কাছে কম গর্বের নয়।" ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্স এডুকেশন এন্ড রিসার্চ-র প্রফেসর, ডিন (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন), স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার তথা এনএসএস প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ক্যাপ্টেন রামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলেন, "তিনটে স্তর পেরিয়ে ওই প্যারেডে সুযোগ পেয়েছে এই পড়ুয়ারা।"
তবে এই সাত পড়ুয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন মেয়েদের মধ্যে ঐশ্বর্য, সমাদৃতা ও ছেলেদের মধ্যে সূর্যকান্ত। "হিন্দুস্থান হিন্দুস্তান, হ্যা তুঝমে কহি মেরি জান" এই গানে এই তিন পড়ুয়া লোকনৃত্য তুলে ধরবেন। ওই সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের অনুশীলন শেষে রবিবার রাতে সমাদৃতা ও সূর্যকান্ত আবেগে ভেসে বলেন, "জীবনের সবচেয়ে ভালো সময় কাটাচ্ছি। ২৬ শে জানুয়ারির প্যারেড ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের অংশ নিতে পেরে আমরা গর্বিত, অভিভূত। কিন্তু আফসোস, প্রটোকলে কোন ছবি, ভিডিও করতে পারছি না।" ২৭ জানুয়ারি দুপুরে রাইসিনা হিলসে রাষ্ট্রপতি ভবনে ওই নৃত্যানুষ্ঠানে বাংলার এই ছাত্র- ছাত্রী সহ বিভিন্ন রাজ্য মিলিয়ে মোট ৩০ জন অংশ নেবে। সেখানেই দুপুরের আহার সারবেন তাঁরা। তারপর ওইদিনই উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে।
