পেটের আবার জাত কীসের! বাইরে ভেদাভেদের রাজনীতি থাকলেও নন্দীগ্রাম যেন বলছে অন্য কথা! ভোট-রাজনীতির তীব্র দাবদাহ শুরুর মুহূর্তেই ‘হটসিট’ যা দেখাচ্ছে, তা আগামী দিনে বঙ্গরাজনীতির আঙিনা বদলে দেবে কিনা বলবে সময়। কিন্তু সরেজমিনে বদলে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে পৌঁছনোর পর চোখে পড়ল অন্য আবহ! অনেকেই বলছেন, মেলালেন তিনি মেলালেন! অভিষেকের সেবাশ্রয়ে জনতার ঢল, এবং জনসমুদ্রের স্বাস্থ্যশিবিরে যেন আশ্রয় খুঁজছে শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম! রাস্তা থেকে এক ঝলকে দেখলে ভিরমি খাবেন আপনিও!নন্দীগ্রাম নাকি ডায়মন্ড হারবার, ভিড় দেখে উপায় নেই চেনার। পূর্ব মেদিনীপুরের তথাকথিত শুভেন্দু-গড়ে কান পাতলেই শো শো করছে অন্য বাতাস!
ছবি: ব্রতীন কুণ্ডু
বিধানসভা নির্বাচনের আগে নজির সৃষ্টি করছে স্বাস্থ্যের ‘সেবাশ্রয়’। খোদামবাড়ি হোক অথবা নন্দীগ্রাম বাইপাস, দুই সেবাশ্রয় ক্যাম্পে পা পড়ছে বহু মানুষের। ফাঁকা মাঠের ধুলোয় মিশছে শুধুই স্বস্তির নিঃশ্বাস! এক ক্লিকেই সব সমাধানের মতোই এক ক্যাম্পেই সব রকমের পরিষেবা নিতে হাজির হচ্ছে গোটা নন্দীগ্রাম! কী নেই সেখানে! জেনারেল মেডিসিন থেকে অস্থিরোগ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই স্বপ্নের পরিষেবায় রয়েছে সব। মিনি আইসিইউ, রয়েছে চোখের চিকিৎসার ব্যবস্থাও। স্থানান্তর থেকে চোখের অস্ত্রোপচার, অথবা অন্য কোনও পরিষেবা। সবকিছুর ব্যবস্থা হচ্ছে এই স্বাস্থ্যশিবির থেকে। এক ঝলকে দেখলে ছোটখাটো বেসরকারি হাসপাতালের থেকে কম যায় না নন্দীগ্রামের দুই সেবাশ্রয়।
ছবি: ব্রতীন কুণ্ডু
পরিসংখ্যান বলছে, ২৪ জানুয়ারি রাত ৮টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামের দুই সেবাশ্রয় ক্যাম্পে এসেছেন ২৫ হাজারের বেশি মানুষ। প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজারের বেশি রোগী দেখছেন সেবাশ্রয়ে নিযুক্ত চিকিৎসকেরা। প্রত্যেকটি বিভাগেই বিনামূল্যে মিলছে সব পরিষেবা। আর এই বিপুল উদ্যোগে সাড়া দিয়ে, ভয় কাটিয়ে হাজির হচ্ছে জনতা! নন্দীগ্রামের আনাচ-কানাচ থেকে আসছেন সাধারণ মানুষ। কেউ আসছেন পটাশপুর থেকে। কেউ ভুগছেন কিডনির অসুখে, কারও রয়েছে চোখে ছানি। আবার কারও হৃদরোগ! সবক্ষেত্রেই সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা মিলছে নিরন্তর।
সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই স্বপ্নের পরিষেবায় রয়েছে সব। মিনি আইসিইউ, রয়েছে চোখের চিকিৎসার ব্যবস্থাও। স্থানান্তর থেকে চোখের অস্ত্রোপচার, অথবা অন্য কোনও পরিষেবা। সবকিছুর ব্যবস্থা হচ্ছে এই স্বাস্থ্যশিবির থেকে।
ছবি: ব্রতীন কুণ্ডু
নন্দীগ্রামের খোদামবাড়ি এলাকার সেবাশ্রয় ২ মডেল ক্যাম্পের চিকিৎসক কো-অঅর্ডিনেটর বিশ্বজিৎ সাহু বলছেন, ‘মাননীয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে গত ১৫ জানুয়ারি থেকে এই ক্যাম্প চলছে। চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রত্যেকদিন কয়েক হাজার রোগী আসছেন। বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসা পরিষেবা মিলছে। আমরা এই উদ্যোগের সঙ্গে একাত্ম বোধ করছি। নন্দীগ্রামের মানুষ ভীষণ খুশি।’
ছবি: ব্রতীন কুণ্ডু
ওই চিকিৎসকের সুরেই নন্দীগ্রাম ১ এবং নন্দীগ্রাম ২- এর সেবাশ্রয়ে আগতরা বলছেন প্রায় একই কথা। রুথরেজা বিবি, বেশ কয়েক বছর ধরে কানের সমস্যায় ভুগছেন। সেবাশ্রয় তাঁকে অনেকটা সুস্থ করেছে বলে দাবি। রুথরেজা বিবি বলছেন, ‘এখানে এসে বিনা পয়সায় দারুণ সাহায্য পেয়েছি। আমি অনেক ভালো আছি। আবার যেন এমন ক্যাম্প হয়।’ সেবাশ্রয় ক্যাম্পে আসা শেফালি মিত্র, আরতি রানি মান্না বলছেন, ‘এমন উদ্যোগ আগে কখনও দেখিনি। শুনেছিলাম সেবাশ্রয় হচ্ছে। মন থেকে চাইছিলাম এমন একটা স্বাস্থ্যশিবির নন্দীগ্রামে হোক। আমরা যা দেখছি, এর কোনও তুলনা নেই। ভীষণ খুশি।’
গত পাঁচ বছরে বহু উত্থান-পতন দেখেছে নন্দীগ্রাম। রাজনীতি, অশান্তি, প্রত্যেক মুহূর্তেই প্রশ্নের মুখোমুখি হয় অনেকের কাজ! ঠিক এই আবহে ‘নন্দীগ্রাম চাইছে’, অভিষেকের সুরেরই প্রতিফলন মিলল রবিবারের নন্দীগ্রাম পর্যবেক্ষণে। অনেকেই বলছেন, আগামীতে পথ দেখাবে নন্দীগ্রাম নয়, পথের কথা বলবে সেবাশ্রয়!
