সমুদ্র গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দেওয়ায় পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে শিলচর থেকে পুদুচেরির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর পদে যোগদানের নিয়োগপত্র পেলেন উত্তর দিনাজপুর তথা বাংলার কৃতী কন্যা কোয়েনা মুখোপাধ্যায়। শনিবার চেন্নাইয়ে আয়োজিত রোজগার মেলার উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এল মুরুগানের হাত থেকে তিনি নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন। কাকতালীয়ভাবে এদিনই ছিল তাঁর জন্মদিন।
কোয়েনার বাবা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শ্রীকুমার মুখোপাধ্যায় নিজেও ছিলেন খড়্গপুর আইআইটি-র পিএইচডি। মালদহ কলেজের গণিতের প্রাক্তন অধ্যাপক। মা স্বপ্না মুখোপাধ্যায়ও খড়্গপুর আইআইটি থেকে পিএইচডি করে প্রথমে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতের অধ্যাপক ছিলেন। পরবর্তীতে ইটাহার ডক্টর মেঘনাদ সাহা কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিযুক্ত হন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি শিলচরের অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর পদে ২০১৮ সাল থেকে কর্মরত ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই ২০২২ সাল থেকে আন্ডারওয়াটারের বিশেষ ভেহিক্যাল তৈরির রোবটিক্স নিয়ে গবেষণায় নজরকাড়া সাফল্য মেলে। ওই গবেষণায় কৃতিত্বের জন্য ফ্রান্সে সম্মানিত হন তিনি। আর এরপরই সমুদ্র গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য দ্রুত অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর পদমর্যাদায় পদোন্নতি তাঁর।
প্রসঙ্গত, আন্ডারওয়াটার রোবট ব্যবহার করে সমুদ্রের জলের তলার পাইপলাইনে গিয়ে ছবি তুলবে আর পাইপলাইন পরিষ্কার করবে যাতে ওয়াটার ফ্লো বা জলস্রোত না আটকায়। বর্তমানে ‘স্মার্ট ফায়ারফাইটার স্যুট’-এ গবেষণায় মগ্ন রায়গঞ্জ কলেজপাড়ার বাসিন্দা মেধাবী মেয়ে কোয়েনা মুখোপাধ্যায়। এদিন চেন্নাই থেকে ফোনে অত্যন্ত মৃদুস্বরে বলেন, “আমি রোবট নিয়ে পড়াই। সমুদ্রে জলের আমার তত্ত্বাবধানে গবেষণা করছে একাধিক ছাত্রছাত্রী। তবে খুব ভালো লাগছে আজ আমার জন্মদিনে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর পদোন্নতির নিয়োগপত্র হাতে পেলাম। সেই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আমাকে একটি চিঠি দিয়েছেন। আমার জীবনের স্মরণীয় দিন আজ।” উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ গার্লস হাই স্কুল থেকে ২০০৩-এ মাধ্যমিক। রায়গঞ্জ করোনেশন হাই স্কুল থেকে ২০০৫-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে হলদিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে বি-টেক। পরবর্তীতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি হিমাচলপ্রদেশের হামিপুর এবং রাউলকেল্লা থেকে এমটেক। তার পর দিল্লি আইআইটি থেকে পিএইচডি।
বর্তমান অনুসন্ধান ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন (এএনআরএফ) আর্থিক বরাদ্দে ‘ফায়ারফাইটার স্যুট’ তৈরির গবেষণায় সহযোগিতায় আরও দুই মেকানিক্যাল অধ্যাপক রয়েছে। সেই স্যুট বা রোবটিকস স্যুট বা পোশাকে সেনসর থাকবে, যাতে অক্সিজেন লেবেলে ক্ষতিকারক গ্যাস নির্ণয় করা সম্ভব হয়। আর আগুনে ফায়ারফাইটারের যদি কোনও নিশ্বাস নিতে কোনও সমস্যা হয় সেই সংকেত মিলবে। সেটা কন্ট্রোলরুম থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
