বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি: দেশের সুরক্ষার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ 'চিকেনস নেক' অর্থাৎ শিলিগুড়ি করিডর! আর এই স্পর্শকাতর এলাকাই এখন জঙ্গিদের টার্গেটে! গোয়েন্দা সূত্রে খবর, 'চিকেনস নেকে' হামলা চালাতেই নাকি বাংলাদেশি জঙ্গিদের নিয়ে বিশেষ আত্মঘাতী বাহিনী গঠন করতে তৎপর হয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই! ওই বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছে একাত্তরে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীর দোসর জামায়াতে ইসলামী নেতা গোলাম আজমের ছেলে আবদুল্লাহিল আমান আজমি! গোয়েন্দা সূত্রে এমনই খবর মিলতে সীমান্তে আধাসামরিক ও সামরিক বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জঙ্গিরা যেন ঘন কুয়াশার সুযোগ না-নিতে পারে সেজন্য থার্মাল ক্যামেরা, নাইটভিশন ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি চালানো হয়েছে। সীমান্তে ভারতীয় অংশের চেকপোস্টে বসানো হয়েছে বায়োমেট্রিক লকও।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে সীমান্তে তৎপর সেনাবাহিনী। যেকোনও রকম অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে বিএসএফ, এসএসবি, সিআরপিএফ, আইটিবিপি, সিআইএসএফ। গোয়েন্দা সূত্রে আগেই খবর ছিল, লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি) প্রধান হাফিজ সইদ বাংলাদেশের মাধ্যমে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে একটি নতুন ফ্রন্ট খোলার পরিকল্পনা করছে! তার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকেও সেখানে পাঠানো হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছিল। সেই সহযোগী জামাত নেতা গোলাম আজমের ছেলে আবদুল্লাহিল আমান আজমি কিনা সেটা খতিয়ে দেখছেন এখন গোয়েন্দারা। তবে 'চিকেনস নেকে'র নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি নিতে নারাজ ভারত! ফলে সবদিক থেকে 'শিলিগুড়ি করিডরে'র নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে সেনার তরফে।
ইতিমধ্যে উত্তরের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, দুই দিনাজপুর এবং মালদহ মিলিয়ে ছয় জেলায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটোসাটো করা হয়েছে। ১৯৫ কিলোমিটার সীমান্তে নদী, জমির সমস্যার জন্য কাঁটাতারের বেড়া নেই। আবার নদীর পারে কাঁটাতার ফেলা থাকলেও তাতে নিরাপত্তা পুরোপুরি সুনিশ্চিত হয়নি। ওই এলাকায় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) টহল বাড়ানো হয়েছে।
ফাইল ছবি
ইতিমধ্যে ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত 'চিকেনস নেক' নামে পরিচিত 'শিলিগুড়ি করিডোর' রক্ষায় বাংলাদেশ সীমান্তের পাশে অসমের ধুবড়ি সংলগ্ন বামুনি, বিহারের কিশনগঞ্জ এবং উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া এলাকায় তিনটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে মোতায়েন রাখা হয়েছে রাফাল যুদ্ধবিমান, বিভিন্ন মিগ ভ্যারিয়েন্ট ও ব্রাহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র। গোয়েন্দারা জেনেছে সীমান্তের ছিদ্রপথে সন্ত্রাসবাদীদের এদেশে প্রবেশের রাস্তা তৈরি করারও পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি ইসলামি জঙ্গিদের নিয়ে বিশেষ আত্মঘাতী বাহিনী গঠনের খবর হালকা নজরে দেখছে না ভারত।
