বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের ভূমিকম্পের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই শনিবার সন্ধ্যায় ফের কেপে উঠল সিকিমের মাটি। সন্ধ্যা ৬ টা ৩৭ মিনিটে গ্যাংটক এবং সিকিমের অন্য অংশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুসারে রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.২। যার বেশিরভাগই ৫ কিলোমিটারের মধ্যে গভীর ছিল। জানা গিয়েছে, এবারের উৎসস্থল দক্ষিণ সিকিমের রাভাংলা। বৃহস্পতিবার মাঝরাতে ধারাবাহিক ভাবে ১২ বার কেপে উঠেছিল গোটা সিকিম।
পশ্চিম সিকিমের গ্যালশিং এলাকায় ভূগর্ভ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার নিচে ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ২.২ থেকে ৪.৫ পর্যন্ত। যার বেশিরভাগই ৫ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে গভীর ছিল। ওই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির প্রচুর ঘরবাড়ি, স্কুলের দেওয়াল ও ছাদে ফাটল দেখা দেয়। সিকিমের গিয়ালশিং এলাকার বিভিন্ন স্কুল বাড়ির দেওয়াল ও ছাদে বিপজ্জনক ফাটল দেখা গিয়েছে। শনিবার স্কুল কর্তৃপক্ষ স্কুল ক্যাম্পাস ঘুরে দেখার সময় ওই ফাটল নজরে আসে।
জানা গিয়েছে, হি-ইয়াংথাং সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের বিভিন্ন ভবনের দেওয়াল এবং ছাদে বেশ কয়েকটি বড় এবং ছোট ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়াও স্কুল প্রধানের রিপোর্ট অনুসারে দরজা এবং জানালার ফ্রেমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে, বাংটেন সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের দেওয়াল, মেঝে এবং সিলিংয়ে বড় এবং ছোট ফাটল ধরেছে। খান্ডু সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের অধীন পুরাতন জুনিয়র হাই স্কুল ভবনের দেয়ালেও একাধিক জায়গায় ছোটখাটো ফাটল দেখা দিয়েছে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। রাধু জুনিয়র হাই স্কুল এবং লোয়ার রাধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনগুলিও কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে মঙ্গন, নামচি, দার্জিলিং, ভুটানের থিম্পু থেকে। এদিনের ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের সিকিম কেন্দ্রের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা বলেন, "কম্পন খুবই হাল্কা ছিল। তবে বৃহস্পতিবার রাতের পর থেকে মানুষ আতঙ্কিত ছিল। তাই কম্পন অনুভূত হতেই লোকজন রাস্তায় নেমেছে।"
