সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: দলীয় নির্দেশ অমান্য করে রীতিমতো বিজ্ঞপ্তি জারি করে পিকনিকের আয়োজন করে বিতর্কে জড়াল পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি। এই সংগঠনের পুরুলিয়া জেলা শাখার ওই বনভোজনকে ঘিরে ওই শিক্ষক সংগঠন-সহ জেলা তৃণমূলেও নানা জল্পনা চলছে। পিকনিকের জন্য রীতিমতো পোস্টারিং এবং ব্যানার পর্যন্ত করা হয়েছে। রবিবার, ৪ জানুয়ারি হুড়ার ফুটিয়ারি ড্যামে ওই পিকনিক রয়েছে। ব্যানারে রীতিমত ওই জলাধারের ছবি দিয়ে শিরোনাম করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, পুরুলিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে পিকনিক। নিচে জলাধারের রঙিন ছবি, তার উপরে হলুদ কালোতে লেখা স্থান - ফুটিয়ারি ড্যাম।
তারিখ- ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, রবিবার। সেইসঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে পোস্টারিং করে যে প্রচার করা হচ্ছে সেখানকার শিরোনামে ওই সংগঠনের নাম লেখার পাশাপাশি বড় হরফে লেখা রয়েছে বনভোজন। সেখানে আবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। যা নিয়ে আরও বেশি বিতর্ক ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, অনুমতি ছাড়া কি এভাবে ছবি ব্যবহার করা যায়?
এই বিজ্ঞপ্তি ঘিরেই যত বিতর্ক। নিজস্ব ছবি।
অভিযোগ, এই পিকনিকের খরচ একটি জায়গা থেকে তোলা হয়েছে বলেও রীতিমতো গুঞ্জন চলছে। ওই সংগঠনের জেলা সভাপতি সোমনাথ কুইরি বলেন, "কোথাও কোন ব্যানার করা হয়নি। সংগঠন পরিচালনা করার জন্য হোয়াটস্যাপ গ্ৰুপে তো ওইরকম বিজ্ঞপ্তি জারি করতেই হয়। তাছাড়া পিকনিক কিছু হচ্ছে না। আলোচনা করে একটু খাওয়াদাওয়া। তাছাড়া যা কিছু আয়োজন করা হচ্ছে, সংগঠনের রাজ্য সভাপতির অনুমোদন নিয়ে।"
গত ২২ ডিসেম্বর নেতাজি ইন্ডোরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি দলীয় কর্মসূচিতে জানিয়েছিলেন, এবার কোনও পিকনিক হবে না। ২০২৬-এ ভোটে জেতার পর পিকনিক হবে। তৃণমূল নেত্রীর ওই কথার সূত্র ধরেই গত ২৮ ডিসেম্বর দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য জুড়ে যে ভিডিও কনফারেন্স করেছিলেন সেখানেও তিনি ওই নেত্রীর কথা মনে করিয়ে দেন। তারপরেও এমন পিকনিকের আয়োজনে ওই সংগঠনের বহু শিক্ষক সেখানে যাচ্ছেন না। হোয়াটসঅ্যাপের একটি স্ক্রিনশট রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হয়েছে ওই পিকনিকের বিজ্ঞপ্তিও।
তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের পিকনিকের বিজ্ঞপ্তি।
সংগঠনের জেলা সভাপতি সোমনাথ কুইরি সেখানে লিখেছেন, "পিকনিকে যারা সম্পূর্ণ নিরামিষ এবং যারা চিকেনের পরিবর্তে মাছ খাবেন তাঁদের অনুরোধ আপনারা নিচের দেওয়া ভোটিং কমপ্লেক্সে ক্লিক করে ২ জানুয়ারির মধ্যে সহযোগিতা করবেন।" এই সংগঠনের বর্তমানে রাজ্য সহ-সভাপতি তথা প্রাক্তন জেলা সভাপতি সত্যকিঙ্কর মাহাতো বলেন, "আমি এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না।" পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সরেন বলেন, "খোঁজ নিয়ে দেখছি কী হয়েছে।" নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সংগঠনের একাধিক শিক্ষকের বক্তব্য, "প্রথমত দলের নির্দেশ রয়েছে এখন দলীয় ব্যানারে কোন পিকনিক করা যাবে না। তাছাড়া এই পিকনিকের খরচ যেভাবে যোগাড় করা হয়েছে তা মন থেকে মেনে নিতে পারছি না। আমরা একেকজন শিক্ষক ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বেতন পাই। বনভোজন করার জন্য অন্যের সাহায্য নিতে হবে এটা ভাবতেই পারছি না।"
পিকনিক সংক্রান্ত যে বিজ্ঞপ্তি ভাইরাল হয়েছে সেখানে লেখা রয়েছে, পিকনিক স্থলের সকাল ১০ টা থেকে সকাল ১১ টা পর্যন্ত টিফিন ও চায়ের ব্যবস্থা থাকবে। লাঞ্চ সম্ভাব্য দেড়টা থেকে শুরু। সম্ভাব্য দুপুর তিনটার সময় পিকনিক শেষ করে পিকনিক স্থল থেকে পুনরায় বাড়ির উদ্দেশ্যে বাস ছাড়বে। আরও কয়েকটি বিষয় তুলে ধরে নিচে লেখা - জেলা সভাপতি, পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, পুরুলিয়া জেলা শাখা। আপাতত এই ব্যানার ঘিরেই যত বিতর্ক।
