সুমন করাতি, হুগলি: তথাকথিত উদারপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ বামেদেরও এবার ধর্ম শরণে! ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা তাদের দেওয়াল লিখনে। তাও আবার ব্রিগেডের প্রচারে। হুগলির সিঙ্গুরে সিপিএমের 'হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই' দেওয়াল লিখন ঘিরে তুঙ্গে চর্চা। জমি আন্দোলনের পীঠস্থানেই সিপিএমের এহেন সম্প্রীতির বার্তা কেন? এ প্রশ্নের জবাবে অবশ্য ব্রিগেডের আয়োজক সারা ভারত কৃষক সভার সদস্যদের দাবি, বিজেপি-তৃণমূলের ধর্মীয় বিভাজনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁরা সম্প্রীতিকেই হাতিয়ার করতে চায়।

আগামী ২০ এপ্রিল বামেদের ব্রিগেড সমাবেশ। এবছর আয়োজক সিপিএমের কৃষক সংগঠন সারা ভারত কৃষক সভা AIKS, খেতমজুর সংগঠন AIAWU ও শ্রমিক সংগঠন CITU। ভোটবাক্সে শূন্যের গেরো কাটাতে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে এই ব্রিগেডের আয়োজন করা হয়েছে। তার প্রচারও শুরু হয়েছে বাংলাজুড়ে। হুগলির সিঙ্গুরে তারই প্রচার চলছিল। দেখা গেল, বামপন্থী কর্মীরা দেওয়াল লিখছেন। সিঙ্গুরে ১১ নং রেলগেট সংলগ্ন এলাকার দেওয়ালে লেখা হয়েছে - 'হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই/বেকারদের কাজ চাই/ ফসলের মূল্য চাই/ শ্রমিকদের বেতন চাই।" আর এহেন দেওয়াল লিখনই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ধর্মীয় বার্তা দিয়ে একাধিক পোস্টার, দেওয়াল লিখন শুরু করেছে বিজেপি-তৃণমূল। এবার বামেরাও তাতে নাম লেখাল! কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ বামেদের হঠাৎ কেন এই বদল?
ব্রিগেডের সমর্থনে দেওয়াল লিখনে কেন ধর্মীয় ইস্যু যুক্ত হল? এই প্রশ্নের জবাবে সারা ভারত কৃষক সভার সিঙ্গুর থানার সম্পাদক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ''রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের রাজনীতি করে মানুষকে মূল সমস্যা থেকে সরিয়ে দিতে চাইছে। উভয়েই ভোটে ফায়দা লুটছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করে কেন্দ্রে বিজেপি ও রাজ্যে তৃণমূল থাকবে একে অপরের হাত ধরাধরি করে। সেই জন্যেই রাজ্যে কৃষকের ফসলের দাম নেই, শ্রমিকের মজুরি নেই, বেকারদের কাজ নেই, ১০০ দিনের কাজ বন্ধ, মহিলাদের উপর নির্যাতন চলছে। পাশাপাশি রাজ্যে সর্ব ক্ষেত্রে দুর্নীতি চলছে। তাই এসব বিষয়কে সামনে রেখে আমরা বলতে চাই, বিভাজন নয়, হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির আবহে জনতার আসল সমস্যার সমাধান হোক। এবারের ব্রিগেড সমাবেশে সেই বার্তাই উঠে আসবে। যা দেওয়াল লিখনে উঠে এসেছে।'' দলীয় সদস্যের জবাব যাই হোক, বামেদের এবারের ব্রিগেড সমাবেশ ঘিরে যে ধর্মের হাওয়া বইছে, তা নিয়ে সমালোচনার অবকাশ থাকছেই।